শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বড়সিতে শত কেজির শুশুক

বড়সিতে শত কেজির শুশুক

টাঙ্গাইলে নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীতে বরশিতে ধরা পরেছে ১০০ কেজি ওজনের বিপন্ন প্রাণীর শুশুক মাছ। পরে স্থানীয় বাজারে মাছটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। রোববার ভোরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকার ধলেশ্বরী নদীতে সেন্টু নামের স্থানীয় এক যুবকের বরশিতে ধরা পড়ে শুশুক মাছটি। সেন্টু উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।

জানা গেছে, শুশুক একটি স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণী। বাংলাদেশে এখন এটি বিপন্ন প্রাণী। শুশুক মাছ সাধারণত উপকূল ও সমুদ্রে বিচরণ করে। বর্ষা মৌসুমে বড় বড় নদীতেও শুশুক মাছের দেখা পাওয়া যায়। মাছগুলো মাঝে মাঝে পানি থেকে উপরে লাফ দেয় এবং দল বেঁধে চলে।

এলাকাবাসী জানায়, ধলেশ্বরী নদীতে সেন্টু গতকাল রাতে বোয়াল মাছ ধরার বরশি (জিয়ালা বরশি) নদীতে ফেলে আসে। পরে সকালে বরশিতে একটি বোয়াল মাছ আটকে যায়। এসময় শুশুক মাছটি বোয়াল মাছটি খাওয়ার সময় বরশিতে আটকে যায়। পরে সে মাছটি খুলে আনার জন্য গেলে বিশাল আকৃতির শুশুক মাছ দেখে ভয়ে চলে আসে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মাছটি নদী থেকে তুলে নিয়ে আসে। এরপর সকালে শুশুক মাছটি জাঙ্গালীয়া বাজারে নেয়া হয়। বিশালাকৃতির মাছটির খবর পেয়ে আশপাশের হাজারো লোকজন শুশুক মাছটি দেখতে বাজারে ভিড় জমায়।

 সেন্টু মিয়া বলেন, বোয়াল মাছ মারা বরশি নদীতে ফেলে আসি। বরশি ফেলার পর ছোট একটি বোয়াল মাছ বরশিতে আটকে যায়। এ সময় ওই বিশাল আকৃতির শুশুক মাছ বোয়াল মাছটিকে গিলে ফেলে। ওই মাছটি দেখে আমি ভয় পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করি। এসময় আমার চিৎকার শুনে নদী পাড়ের লোকজন ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন। শুশুক মাছটির ওজন আনুমানিক ১০০ কেজি হবে। স্থানীয় বাজারে নেয়া হলে স্থানীয়রা ১৫ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেয়।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ৫টি বাড়ি লকডাউন

শুশুক মাছের ক্রেতা ইসমাইল মিয়া জানান, মাছটি ১৫ হাজার টাকায় সেন্টুর কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। পরে আমরা কয়েকজন মিলে মাছটি ভাগ করে নিয়েছি।

নাগরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাছুম বিল্লা জানান, সামদ্রিক এই প্রজাতির মাছগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। এটি সংরক্ষিত প্রাণী। খবর পাওয়ার আগেই স্থানীয়রা মাছটি কিনে ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছেন। তবে এটি মারা, ধরা ও খাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। এ ধরণের মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে আমরা স্থানীয়দের সতর্ক করে দিয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন