শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দর্শনার্থী কমায় আয়ে ভাটা

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দর্শনার্থী কমায় আয়ে ভাটা

কয়েকদিন আগেও যেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকতো পুরো এলাকা। এখন অনেকটাই ফাঁকা। ভ্রাম্যমাণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কমে গেছে। বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসলেও দর্শনার্থী না থাকায় তারা হতাশ। এমন চিত্র দেখা গেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে।

সম্প্রতি পার্কের জেব্রা, বাঘ ও সিংহীর মৃত্যুর ঘটনায় ধীরে ধীরে কমে এসেছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। এতে নিত্যদিনের আয়ে ভাটা পড়েছে পার্ক কেন্দ্রিক গড়ে উঠা হকার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়। পার্কের মূল ফটকের পাশেই বৃহৎ মাঠ জুড়ে তারা বসতেন। তবে এখন সারাদিন বসে থেকেও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি না হওয়ায় হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরছেন তারা।

জেব্রা, বাঘ ও সিংহীর মৃত্যুর ঘটনার আগে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থী আসতেন পার্কে। তবে এখন তা কমেছে আগের তুলনায় কয়েকগুন। গতকাল শুক্রবার সারাদিনে এই পার্কে দর্শনার্থী এসেছে মাত্র সাতশর মতো। সুনসান নীরবতায় যেন পার্কের জৌলুস, যৌবন ও চিরচেনা রূপ হারিয়ে গেছে। মূল ফটকের দক্ষিণ পাশের টিকেট কাউন্টার কর্মী, ছোট ছোট রেস্তোরাঁ, দোকানি ও হকাররাও অলস সময় কাটাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নেই পার্কের ভেতর ও বাইরে। ব্যস্ততা নেই পার্কে প্রবেশের জন্য টিকেট কাউন্টারগুলোতেও।

গতকাল শুক্রবার পার্কের ভেতরে কোর সাফারির বেস্টনিতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত বাসগুলো দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও দর্শনার্থীর দেখা পায়নি। ময়ূর ও ধনেশ পাখির জোনে সারাদিনে খুবই অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী এসেছে। তাছাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, ইমু পাখির জোন, প্রজাপতি সাফারি, ইন্দোনেশিয়ান রঙিন মাছের সাফারিসহ অন্য জোনেও তেমন একটা ভিড় চোখে পড়েনি। দর্শনার্থী না থাকায় ফুডকোডগুলোতেও ছিলো নীরবতা।

আরও পড়ুনঃ  এমপি মুরাদের মাথায় সিলিং ফ্যান

পার্কের ভেতরে বিভিন্ন জোনের কাউন্টারে থাকা কর্মীরা জানান, জেব্রা, বাঘ ও সিংহীর মৃত্যুর পর দর্শনার্থীরা আসছেন না। তবে যে কয়েকজন আসছেন, তারাও খুব বেশি সময় থাকছেন না। এর কারণ হিসেবে দর্শনার্থীরা বলছেন, ভেতরে সব জোন খোলা না থাকায় তারা আনন্দ পান না। তাছাড়া মানুষের সমাগম কম থাকায় অনেকেই পার্কের ভেতরের গভীর অরণ্যে যেতে সাহস করেন না।

রিমা আক্তার নামে এক দর্শনার্থী জানান, গত কয়েকদিন আগে এই পার্কে এসেছিলাম পরিবার নিয়ে। ঐ সময়ে পার্কে অনেক মানুষের সমাগম ছিলো। বিশেষ করে ভেতরের সবগুলো জোনে গিয়েছিলাম। আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিলো। এই সপ্তাহে আবার যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু শুনছি পার্কে তেমন একটা মানুষ আসে না। এমন খালি পার্ক কারোর কাছে ভালো লাগে না।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে যাওয়ার জন্য যতগুলো বাহন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বাহন অটোরিকশা। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো রোজগার আয়ে ভাটা পড়েছে সাফারি পার্ক রুটে চলাচলকারী সেই অটো চালকদেরও। বেলাল নামের এক অটো চালক জানান, তিনি অন্য কোথাও ভাড়া টানেন না। একমাত্র বাঘের বাজার থেকে সাফারি পার্ক পর্যন্ত রুটে যাত্রী আনা নেওয়া করেন। আর এতেই তার প্রতিদিন আয় হতো ১ হাজার টাকার মতো।

বেলাল বলেন, পার্কে প্রাণীদের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এখন আমাদের আয়ও অনেকটা কমে গেছে। এখন সারাদিনে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো আয় হয়। দিনভর বৃষ্টিতে গাড়ি নিয়ে অলস সময় কাটাতে হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফের আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি শুরু

গত ২০১৩ সালে সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাঘ, সাদা বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জ্রেবা, হরিণ, ক্যাঙ্গারু, কালো ভাল্লুক, গয়াল, হাতিসহ প্রচুর প্রাণী ও পাখি আনা হয়। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে উদ্ধার ও দেশীয় বনাঞ্চল থেকে পাওয়া প্রাণী ও পাখি এই পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে। সর্বশেষ ১১টি জেব্রা, ১টি বাঘ ও ১টি সিংহী মৃত্যুর ঘটনায় বেশ প্রভাব ফেলে পার্কসহ আগত দর্শনার্থীদের ওপরও।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন