সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৫ আগস্টের মতো আঘাত আরও আসবে: প্রধানমন্ত্রী

আমনে সেচ সুবিধায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

আবারও ১৫ আগস্টের মতো আঘাত আসার শঙ্কার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আঘাত আরও আসবে জানি। এই আঘাত হয়তো সামনে আসবে। যখন আমার আব্বা দেশটাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই তো ১৫ আগস্ট ঘটেছে। আজকেও বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনায় জয়বাংলা ফিরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো যারা সহ্য করতে পারবে না। তারা বসে থাকবে না। আঘাত করবে। বাংলাদেশকে আবারও জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করবে। সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাবো।

গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, যখন বক্তৃতা শেষ করে মাইকটা টেবিলে রাখতে যাব, এমন সময় ফটোগ্রাফার গোর্কি এসে আমাকে বলে, ‘আপা আমি ছবি নিতে পারিনি, আপনি একটু দাঁড়ান। কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। অন্যান্য ফটো সাংবাদিকরাও ট্রাকের ওপর বসে চিৎকার করছে, বলছে আপা একটু দাঁড়ান, আপা একটু দাঁড়ান। ওই একটা বা দুইটা সেকেন্ডের বিষয়। এরপরই চারদিকে বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যারা সেইদিন ট্রাকে ছিলাম, একটা গ্রেনেড যদি ট্রাকের ওপর পড়ত তাহলে হয়তো কেউ রেহাই পেতাম না। জানি না ভাগ্যে কী ছিল। ট্রাকের ডালার সঙ্গে লেগে গ্রেনেড নিচে পড়ে যায়।

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠী সরকারকে চাপ দিচ্ছে উল্লেখ করে পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তাদের সঙ্গে বসতে হবে; কথা বলতে হবে; খাতির করতে হবে; ইলেকশনে আনতে হবে- এত আহ্লাদ কেন আমি তো বুঝি না। বাংলাদেশে কি আর মানুষ নেই?

আরও পড়ুনঃ  মধ্যবিত্ত প্রবীণ নারীর চ্যালেঞ্জ

সরকারপ্রধান বলেন, অনেকে বিদেশিদের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে। সেখান থেকে এসে রিকোয়েস্ট করে কোনো মতে তাদের একটু জায়গা দেওয়া যায় কি না? জায়গা দেবে কি দেবে না সেটা ভাববে জনগণ। সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। তারা আবার সেই সন্ত্রাসের যুগে ফেরত যাবে নাকি আজকে যে উন্নয়ন হচ্ছে সেই উন্নয়নের যুগে থাকবে?

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আর তারা ইলেকশন করবে কীভাবে? যে দলের নেতাই নেই। সাজাপ্রাপ্ত অথবা পলাতক। তারা ইলেকশন করবে কীভাবে আর কীভাবে ভোট পাবে। ভোট কাকে দেখে দেবে, এটাই তো প্রশ্ন। তারপরও অনেক চক্রান্ত আছে। এখনো যেমন নানা রকমের চক্রান্ত, ইলেকশন সামনে এলেই শুরু হয়। কিন্তু এদেশের মানুষের ওপর আমার আস্থা আছে। বিশ্বাস আছে।

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কিছু মানুষের কষ্ট হচ্ছে সেটা আমি উপলব্ধি করতে পারি মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, বৈশ্বিক মন্দার যে ধাক্কা আমাদের ওপর পড়েছে তা থেকে কীভাবে দেশের মানুষকে রক্ষা করব সেটাই আমাদের চিন্তা। ১৫ টাকা কেজিতে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। রেশন কার্ড করে দিচ্ছি। এক কোটি পরিবার রেশন কার্ড পাবে। এটা দিয়ে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবে। আমি চাই না আমার দেশের মানুষ কষ্ট পাক। সবাইকে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সব কিছুতে সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম প্রমুখ। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন