শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় ভাঙা হবে ১৩ ব্রিজ

ঢাকায় ভাঙা হবে ১৩ ব্রিজ
  • উচ্চতা বাড়িয়ে হবে পুনঃনির্মাণ
  • খাল ও লেকে পয়ঃনিষ্কাশনের পানি দেয়া যাবে না: আতিক

ঢাকার চারপাশে নৌ চলাচল ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নদ-নদী ও খালের উপর ইতিপূর্বে চিহ্নিত করা ১৩টি ব্রিজের উচ্চতা বৃদ্ধি করার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য এসব ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ স্থাপন করতে হবে। ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন রেগুলেটর ও ড্রেনেজ আউটলেট স্ট্রাকচারসমূহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুকূলে হস্তান্তরের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

গতকাল রবিবার রাজধানী ঢাকার ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, স্থানীয় সরকার প্রতিন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঢাকার আশপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে নদী তীরবর্তী যেসব শিল্প-কারখানা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নদী তীরবর্তী প্রায় দুই হাজারের বেশি শিল্প-কলকারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪শত শিল্প-কলকারখানায় ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। ১৩টি ব্রিজের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির ছয়টি, সড়ক ও সেতু বিভাগের ছয়টি এবং রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শিল্প মালিকদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা হবে

তাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠায় নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঢাকায় এখন জলযট কমে গেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকলে পরিবেশ নষ্ট হবে। বাস অযোগ্য শহরে পরিণত হবে। আমরা ৫৫টি খালকে ওয়াসা থেকে সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব যথাযথভাবে দিতে হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঢাকার আশেপাশে কিছু ব্রিজের কারণে পানিপথে যাতায়াতে সমস্যা হয়। এসব ভাঙতে হবে। তাতে করে পানিপথের যাতায়াত নিরবচ্ছিন্ন করা যাবে। আবার  জাল-দলিল করে অনেকে খালের জমি দখল করে রেখেছে। তিনি বলেন, বাঙালি উন্নত জাতি, সমৃদ্ধ জাতি। চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। পৃথিবীর সব পরিবর্তন মানুষেই এনেছে। এ জন্য নেতৃত্ব মানুষকেই দিতে হবে। মাত্র ১০ বছরে সাংহাই বস্তি থেকে নগরে পরিণত হয়েছে। বেইজিংও একই কাজ করেছে অথচ আমরা পিছিয়ে আছি।

জাহিদ ফারুক বলেন, ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় ঢাকাক রক্ষা করতে ৫২টি বাঁধ দেয়া হয়। আমরা নদী নিয়েও সমস্যায় আছি। ঢাকার খালগুলো সিটি করপোরেশন নিলে আমরা কাজ থেকে মুক্তি পেতে পারি। খালগুলো সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ঢাকাকে বাসযোগ্য শহরে পরিণত করা যায়।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ইকোনোমিক ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে ঢাকা ৩ ধাপ ওপরে উঠেছে। শেষের দিকে তৃতীয় ধাপে থাকলেও বর্তমানে তা সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। ১৪ লাখ মেট্রিক টন পলি মাটি খাল থেকে সিটি করপোরেশন অপসারণ করেছে। হস্তান্তরিত ৫৫টি স্যুইস গেট আমরা পেয়েছি। তা যথাযথভাবে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকার ৭০ ভাগ এলাকা প্লাবিত থাকলেও দেড় বছরে তা নিরসন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এবারের বাণিজ্য মেলা হতে পারে অনলাইনে

মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে যেসব খাল দিয়েছিলেন তার সুফল ঢাকাবাসীকে দিচ্ছি। এখন বৃষ্টি হলে কোথাও আটকে থাকতে হয় না। ১০টি স্থানে কুইক রেস্কস্টিং স্থাপন করা হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক জলাবদ্ধতাগুলো নিরসন করতে করছি। তিনি বলেন, খাল ও লেকে পয়ঃনিষ্কাশনের পানির প্রবাহ দেয়া যাবে না। এটি করলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন