শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পুঁজি খোয়ানোর বৃত্ত বড় হচ্ছে

বিদায়ী সপ্তাহে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ হারানোর রাস্তা আরো বড় হয়েছে। হারানোর কারনে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে বিনিয়োগকারী। সপ্তাহটিতে কমেছে পুঁজিবাজার মূলধন। পতন হয় সব ধরনের সূচক। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরে হয় পতন। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে চলছে খোয়ানোর অস্থিরতা। তাই সপ্তাহটিতে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার ছিল লক্ষ্য করার মতো।

চলতি বছরের শুরুর দিকের উত্থানে সবাইকে পুঁজিবাজারে প্রতি বিনিয়োগ আগ্রহী করে তুলেছিল জানিয়ে বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বলেন, সেই আগ্রহে অনেকে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছিল। কিন্তু ধারাবাহিক মন্দায় সেই নতুন বিনিয়োগ এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্দা পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে রেগুলেটররা (বিএসইসি) বলেন, চলতি বছরের শুরুতে মূলধন, লেনদেনসহ সূচক অতি বেড়ে যায়। এই কারণে পুঁজিবাজারে শেয়ারগুলোর দর বেড়েছিল অতিরিক্ত। পরের কয়েক সপ্তাহ অতি দরের কিছুটা লাগাম পড়েছিল। তখন শেয়ার দর কমতে থাকে। পরে কয়েক সপ্তাহ বাড়া-কমার মধ্যে কেটে যায়। এরপর হঠাৎ করেই কয়েক সপ্তাহ পুঁজিবাজার মন্দা। এ ধরনের মন্দাকে কারেকশন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারেকশনের পর সামনে পুঁজিবাজার ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করেন তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ডিএসইর পুঁজিবাজারের মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এক সপ্তাহে আগে বা ১৬ জুন মূলধন ছিল ৫ লাখ ১৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে সিএসইর পুঁজিবাজারের মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। গত ১৬ জুন মূলধন ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। সিএসইতে মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুনঃ  ৫ কোম্পানির শেয়ার হল্টেড

চলতি বছরের প্রথম তিন সপ্তাহ (১৫ কার্যদিবস) কারণ বিহীন বেড়ে উঠেছিল পুঁজিবাজার মূলধন। হঠাৎ করেই এরপরের দুই সপ্তাহ (১০ কার্যদিবস) মূলধন কমতে দেখা গেছে। তাল মিলিয়ে বছর শুরুর তিন সপ্তাহে লেনদেন উত্থানে চমক থাকলেও এরপর দুই সপ্তাহে লেনদেন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। পরের সপ্তাহে মূলধন বৃত্ত বেড়েছিল। সেখান থেকে পরের সপ্তাহগুলোতে মূলধন বাড়া-কমার মধ্যে ছিল। কিন্তু গেল সপ্তাহে মূলধন কমার গতি বেশি ছিল। সপ্তাহটিতে দুই স্টকের মিলে (ডিএসই ও সিএসই) মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। এ ধরনের কমাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে মূলধন বাড়া-কমা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে অতিরিক্ত বৃদ্ধি যেমন ভালো লক্ষ্মণ না, তেমনি কমাও নয়। সব ক্ষেত্রেই বাড়া-কমার একটা সীমা থাকে। যখন সেই সীমা অতিক্রম করে, সেই ক্ষেত্রে সবার মনে অনেকগুলোর প্রশ্ন তৈরি হয়। এসব প্রশ্নের পরিষ্কার ও যৌক্তিক জবাব জানা থাকলে, সেটা অন্য কথা। না জানা থাকলে সেই ক্ষেত্রে বিযয়টি ভালো চোখে দেখার কথা না।

এদিকে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর পুঁজিবাজারের সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়। এক সপ্তাহে ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২৭ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই৩০ সূচক ১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৮২ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃ  ৬ মিনিটে উধাও ১০০ পয়েন্ট

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬১৮ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই৫০ সূচক ১ দশমিক ১৬ শতাংশ, সিএসই৩০ সূচক দশমিক ৫১ শতাংশ, সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক ১ দশামক ৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৬৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৫০৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে, ১১ হাজার ১৬১ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৭৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৪ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। অপরদিকে গেল সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯৯ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮৯ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ২৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৭৪টির, দর কমেছে ২৯৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির কোম্পানির। লেদনের হয়নি ৫ কোম্পানির শেয়ার। সপ্তাহে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৪০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৭৪টির, দর কমেছে ২৫২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির কোম্পানির।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন