মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্লাস্টিকের দাপটে বেতশিল্পে দুর্দিন

প্লাস্টিকের দাপটে বেতশিল্পে দুর্দিন

বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের চাহিদা প্রতিনিয়ত কমছে। কুমিল্লার লালমাইয়ে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এ শিল্প। আধুনিক সভ্যতার দাপটে জীবনধারায় বিপুল পরিমান প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহারে এ এলাকার মানুষ গৃহস্থালির কাজে বাঁশ ও বেতর তৈরিকৃত নান্দনিক উপকরণে আগ্রহ হারাচ্ছে। প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহারের ফলে এবং বাঁশ-বেত শিল্পের সহজলভ্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল না থাকায় এ পেশার কারিগররা জীবিকার তাগিদে বেঁছে নিচ্ছেন ভিন্ন পেশা।

পুরুষদের পাশাপাশি সংসারের কাজ শেষ করে নারী কারিগররাই বাঁশ ও বেত দিয়ে পণ্য বেশি তৈরি করে থাকেন। তবে বর্তমানে বেত তেমন সহজলভ্য না হওয়ায় বাঁশ দিয়েই বেশি এ সব চিরচেনা পণ্য তৈরি করছেন কারিগররা।

বাঁশ ও বেত থেকে তৈরি সামগ্রী শিশুদের দোলনা, র‌্যাগ, পাখা, ঝাড়ু, টোপা, ডালীর এখন আর দেখা মেলে না গ্রামে। সাজি, ওরা, কুলা, মোরা, পুরা, দাড়িপাল্লা, ঝাঁপি, ফুলদানি, ফুলের ডালি, খাবার ঘরের ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, টেবিল, সোফা সেট, খাট, মাছ ধরার পোলো, চাই, বুচনাসহ বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র গ্রামাঞ্চলের সর্বত্র নান্দনিক ব্যবহার ছিলো এক সময়। গ্রাম বাংলার কৃষকরা তাঁদের ধান চাল গোলায় রাখার বাঁশের চাটাই, মোরা, ডোলা ব্যবহার করতো।

এদিকে আবহমানকাল ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অন্যতম প্রতিচ্ছবি বাঁশ ও বেত তৈরি শিল্প সামগ্রীর কদর কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চরম দুর্দিন নেমে এসেছে শিল্পটির সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জীবনে। তবে এখনো অনেকে পারিবারিক ঐতিহ্য আর জীবিকার তাগিদে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার আমুয়া ও কালোরা গ্রামে বাঁশ ও বেতশিল্পের পণ্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শতাধিক পরিবার। এ শিল্পর সঙ্গে জড়িত উপজেলার আমুয়া গ্রামের জসিম। তার সংসারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা আর স্ত্রী। বেতের তৈরি পণ্য বেচে সংসারের যাবতীয় খরচ তিনি একাই বহন করেন। পাশাপাশি বিধবা বোন জপুরার সংসারের দায়িত্বও পড়েছে তার উপর। দিনরাত পরিশ্রম করেও বেতের তৈরি পণ্য বেচে যা আয় হয় তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে জসিম। তবে বাজারে বেতের পণ্যের দাম কমে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, বাঁশ ও বেতের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে তৈরিকৃত মালামালের দাম ও বাড়াতে হচ্ছে। তবে কম দামে প্লাস্টিকের একই পণ্য বাজারে পাওয়াতে আমাদের টিকে থাকাই কষ্ট হচ্ছে। তাই বেতশিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখাতের সঙ্গে জড়িতদের সরকারি ঋণ সুবিধার আওতার আনার দাবি জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
আরও পড়ুনঃ  আধ্যাত্মিকতা-শান্তির বিস্ময়

সংবাদটি শেয়ার করুন