বৃহস্পতিবার, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাকালুকিতে বোরো নিয়ে শঙ্কা

হাকালুকিতে বোরো নিয়ে শঙ্কা
  • উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা

কুলাউড়ায় এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর অঞ্চলে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরোর ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা জমিতে চারা রোপনের সময় পানি সেচ, হালচাষে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। ভোর বেলা ক্ষেতের জমি প্রস্তুত করতে কৃষকদের বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো আবাদের জমিতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চারা রোপণ করেছিলেন। শীতের মৌসুমে কৃষকরা ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করে ফসলের আশায় ছিলেন। জমিতে কৃষকরা সার প্রয়োগসহ অন্যান্য পরিচর্যা সময়মতো নিয়মিত করছেন। কয়েক দিন আগে কৃষকদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল তুলতে দেখা দিয়েছিল শঙ্কা। প্রখর তাপে হাকালুকির তীরে কৃষকদের ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছিল তীব্র পানির সংকট। তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল তোলা যাবে কি না এ নিয়ে দেখা দিয়েছিল নানা শঙ্কা। হাকালুকির তীরে মাঠে পানির অভাবে ফাটল দেখা দিয়েছিল। চারা রোপণের প্রথম দিকে কোনো কোনো জায়গায় পানি সেচের ব্যবস্থা থাকলেও পরে ফসলি মাঠে পানির হাহাকার ছিল। তীব্র পানির সংকটে কৃষকের চোখে-মুখে দেখা দিয়েছিল চিন্তার ভাঁজ। পরে খরা কাটিয়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে পানি হয়। আবারো আশার আলো ফুটে কৃষকদের মুখে।

হাকালুকির হাওরে যে ছোট বড় খাল রয়েছে সেগুলি শুকিয়ে গিয়েছিল। আবাদি জমির পরিমান বেশি হওয়ায় তুলনামূলক পানির জোগান না থাকায় দেখা দিয়েছিল পানির অতিরিক্ত সংকট। পানির সংকট অতিরিক্ত মাত্রায় দেখা দেওয়ায় বোরো চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় ধান বের হলেও পানির অভাবে ধানের চারা শোচনীয় অবস্থায় দেখা গিয়েছে। পানির অভাবে অনেক জায়গায় ফলন ভালো হয়নি। হাওর তীরে অনেক কৃষকের আশানুরূপ ফলন এবার হয়নি। বোরো চাষের এলাকায় খরার সময় হিটশকের মাত্রা ধরা হয়েছিল। আক্রান্ত এলাকায় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। ফ্লাওয়ারিং স্টেজের সময় অতিরিক্ত গরম বাতাস থাকায় ধানের শীষ থেকে পানি বেরিয়ে গেছে। কৃষি অফিস বলছে সব শঙ্কা কাটিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। হাওর তীরে পানি সংকট দেখা দিলেও অনান্য জায়গায় ফলন ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  পশ্চিমের জেলায় পাটের দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি

স্থানীয় কৃষক আজমল আলী জানান জানান, বোরোর চারা লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়েছে। এছাড়া বোরো আবাদ করতে খরচও বেশি হয়। চারা লাগানোর পর থেকে তিন-চার দিন পরপর সেচ দিতে হয়। বোরো আবাদ করে লাভবান হওয়ার আশা রাখলেও এবার ফলন ভালো হয়নি। এবার বোরো ধান চাষে কৃষকরা পানির সংকটে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক চিনু মিয়া জানান, পানি সংকট থাকায় চাষিদের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষকরা জানান, বোরো চাষের এলাকায় গভীর নলকূপের ব্যবস্থা থাকলে হয়তো পানি সংকটের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। কৃষকরা হাকালুকির তীরে গভীর নলকূপের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২০০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ১৮০ ও স্থানীয় জাত ২০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন। গত বছর ৭ হাজার ৯ শত ১২ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রায় ধান উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৯ শত ৩৮ মেট্রিক টন। এ বছরের বোরো ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের উন্নতজাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২ বিঘা জমিতে বিশেষ ধানের বীজ ‘বঙ্গবন্ধু ১০০’ দুই জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানান, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক জায়গায় পানি শুকিয়ে গিয়েছিল। এতে অনেক জায়গায় আশানুরূপ ফলন হয়নি। সবমিলিয়ে শঙ্কা কাটিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ধান উৎপাদনে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সহযোগিতা করছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন