সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুঁজিবাজারে ক্রেতা নেই শুধুই বিক্রেতা

পুঁজিবাজারে ক্রেতা নেই শুধুই বিক্রেতা

পাঁচ খাতের শতভাগ কোম্পানির দর পতন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন কমে ছয়শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। এদিন পুঁজিবাজারে ছিল শেয়ার বিক্রেতার হিড়িক। বিক্রির চাপে ৬৯ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। সব ধরনের সূচক পতন হয়। এদিনে সূচক পতনের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। বিক্রির চাপে ৭২ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। তবে লেনদেন বেড়েছে।

রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও পুঁজিবাজার পতনে। কোন ভাবেই মন্দা থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। পতন কারনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মন্দায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হচ্ছে। যার মধ্যে ভাল কোম্পানির সংখ্যাই বেশি। লেনদেন ৬শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এই লেনদেনেও শেয়ার বিক্রির চাপে হয়। পুঁজিবাজারে ক্রেতা সংখ্যা কম। বিক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। অস্বাভাবিক হারে কমছে সূচক। এগুলো ভালো লক্ষণ নয় পুঁজিবাজারের জন্য। এবারে চলতে থাকলে এক সময়ে কাল হয়ে দাঁড়াবে।

পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৭০ দশমিক ৭১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং সিএসইর ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সিএসইর ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের কমা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  ভরা মৌসুমেই ‘ভরাডুবি’

ডিএসইতে এদিন সিরামিক, পেপার, পাট, সেবা আবাসন এবং টেলিকম খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, বিমা, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওযুধ রসায়ন, বস্ত্র, নন-ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, আইটি, বিবিধ, সিমেন্ট এবং চামড়া খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ফান্ড এবং ভ্রমন অবসর খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বাড়া কমায় রয়েছে ছন্দা। শেয়ার দর কমার একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে। দুই স্টকের এ ধরনের শেয়ারের দর হ্রাসকে অস্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার। গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৭৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ২৬৩টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫০টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৫৮ দশমিক ২৪ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৮০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৮ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩১৬ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৮৩ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্টে।

ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। ডিএসইতে বেক্সিমকো ৫৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইসলামি ব্যাংক ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা, এনআরবিসি ব্যাংক ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, আরডি ফুড ১১ কোটি ২ লাখ টাকা ও বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

আরও পড়ুনঃ  করোনাতেও জিডিপি গ্রোথে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়- তথ্যমন্ত্রী

অপরদিকে, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৪টির, কমেছে ২০৮টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৬টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৩৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩৯ দশমিক ৭২ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৩৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৮২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৭৫ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৬৪ দশমিক শূন্য ৬৯ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৭২ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে।

এদিন সিএসইতে পদ্মা লাইফের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। সিএসইতে পদ্মা লাইফ ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, লিন্ডে বিডি ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, নাহি এ্যালুমিনিয়াম ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১ কোটি ২২ লাখ টাকা, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ১ কোটি ৭ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ৯৮ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৬৪ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৬২ লাখ টাকা এবং লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

আরও পড়ুনঃ  একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন