সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় ঠিকাধারের বিরুদ্ধে ধীর গতিতে কাজ অভিযোগ

নেত্রকোণায় ঠিকাধারের বিরুদ্ধে ধীর গতিতে কাজ অভিযোগ

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্থানীয় ঠিকাদার রিয়াজ উদ্দিনের উদাসীনতার ও ধরি গতির কারণে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ১২ কোটি টাকার কাজ ব্যাহত হচ্ছে, ভোগন্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে সরকারের। সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমানের দাবি এলাকাবাসীর।

কেন্দুয়া এলজিডি অফিসের সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় ঠিকাদার রিয়াজ উদ্দিন ব-এচ দরপত্রে ২২-২৩ শতাংশ কাজ নিম্নদর দাখিল করে তিনি হাতিয়ে নেন। এখন কাজ শুরু করে সময়সীমা মাসের পর মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কাজের নেই কোন অগ্রগতি। কাজে বিলম্ব হওয়ার কারণে কেন্দুয়া প্রকৌশলী অফিস থেকে বার বার তাগিদ দিলেও তিনি স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে কাজ ফেলে রেখে উন্নয়ন কাজ ব্যহত করছেন।

কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসন ভবন ও হল রোম নির্মাণ কাজটি চুক্তি মূল্য ৫ কোটি ৬২ লক্ষ ৫০হাজার টাকা। গত বছরের ২২ জানুয়ারি ১৫ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয় কিন্তু অদ্যবধি বিশ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ।

বর্তমানে কাজটি না করে দীর্ঘদিন যাবৎ ফেলে রেখেছেন। অপরদিকে পাহাড়পুর, সিংহের গাও ও ভাহাগুন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজের ৯ মাস সময়সীমা নির্ধারণ করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনটি স্কুলের চুক্তি মূল্য ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। ১৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশ। এছাড়াও সাজিউড়া বাজার , গোগবাজার রাস্তাটির চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৪২ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা।

কাজটি ৭ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়ে ছিল, ইতিমধ্যে ৮ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ  কোরবানির চাহিদার চাইতেও ৯ লাখ বেশি পশু দেশে

নওয়াদিয়া, হাসুয়ারী ফেরিঘাট ভায়া আশুজিয়া ইউপি অফিস পর্যন্ত রাস্তাটির চুক্তিমূল্য ৮৩ লক্ষ ১২ হাজার ৫ শত টাকা। কাজটি গত বছরের জুন মাসের ২০ তারিখ এক বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজের উদ্ভোদন করা হয়েছিল। ১৫ মাস সময় অতিবাহিত হওয়া সত্বেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

এভাবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ দীর্ঘদিন যাবত ফেলে রাখার যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী তেমনি সরকারের ভাব ভর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে কাজের ধীর গতির কারণে।

সিংহেরগাঁও এলাকার মমতাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের কাজাটিতে ঠিকাদার যথেষ্ট গাফিলতি করছেন। যে কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়া লেখায় বিগ্ন হচ্ছে।

বাহাগুন্দ গ্রামের আব্দুল মোতালেব বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধোলা করতে পারেনা অসমাপ্ত নির্মাণ কাজের কারণে। সরকারের দৃষ্টি দেওয়ার দরকার।

এ বিষয়ে কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় কাজের ধীরগতির কারেণে আমাদের দপ্তর থেকে ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ করাহচ্ছে, কিন্তু কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে টিকাদার রিয়াজ উদ্দিনের মোঠোফোন নাম্বারের যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কাজের অগ্রগতি বাড়িয়ে সরকারের উন্নয়ন দৃশ্যমান করার দাবি কেন্দুয়া বাসির।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন