রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সংকট সমাধানে আমদানিতে লাগাম

সংকট সমাধানে আমদানিতে লাগাম
  • দরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভুত হয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তবে সাময়িক এ ব্যবস্থাপনায় আগামী কয়েক মাসে বিদ্যুৎ সংকটের খানিকটা ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলেও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে আমদানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। বিশেষ করে অনুৎপাদনশীল খাত থেকে বেরিয়ে উৎপাদনশীল খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন অব্যাহত রেখেই তাই জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পেট্রোলিয়াম ও খনিজসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেছেন, উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনে ডলার সংকট ঘনীভূত হলে, সামগ্রিক অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। এই বিপদ এড়াতেই আমরা জ্বালানিতে আমদানি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছি।  

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির জন্য দেশের বিশেষজ্ঞরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করলেও মোটা দাগে তারা গ্যাস উৎপাদন ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকার বিপরীতে সরকার উচ্চমূল্যের তরলীকৃত যে প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির দিকে হাত বাড়িয়েছে সেটাই সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে। বর্তমান রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উন্নত দেশগুলো স্পট বা ফটকা বাজার থেকে এলএনজি কিনতে শুরু করেছে। যা জ্বালানির দামকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

আর ফটকা বাজারে যে দাম চড়ে গেছে সেক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না বাংলাদেশ। গেল কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম যে হারে চড়ে গেছে তাতে সরকারকে ফটকা বাজার থেকে উচ্চমূল্যের এলএনজি কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় সাতগুণ দাম পরিশোধ করে তরল জ্বালানি কিনে ঘরে আনতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  এমন রমজান আগে দেখেনি কেউ

হঠাৎ করে এমন বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য দেশের জ্বালানি ব্যবস্থপনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অদক্ষতাকেই দায়ি করছেন অনেকে। তারা বলছেন, গত প্রায় দুই দশকে ধরে দেশে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পাশের দেশগুলো ঠিকই সাগর ভাণ্ডার থেকে গ্যাস উত্তোলন করে দেশীয় চাহিদা মেটাচ্ছে। ফলে আগে থেকেই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী চিন্তাকে কাজে লাগাতে পারলে আজকের সংকট পরিস্থিতি সহজে এড়ানো যেত বলেই মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন