শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
গ্যাস সংযোগ বন্ধ

১৫ হাজার পরিবারে হাহাকার

গ্যাস সংযোগ বন্ধ

শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৫ হাজার পরিবারে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এসব পরিবারের মানুষ। তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে গ্যাস লাইন ফেটে গেছে, কাজ চলমান রয়েছে। তবে সমস্যা সমাধান হতে আরও ৭ দিন সময় লাগবে।

কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর,চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, বোর্ড মিল, পাশা গেট, সফিপুর, রতনপুর, রাখালিয়াচালা, মৌচাক, ভান্নারা বাজার, তেলিপাড়াসহ প্রায় ১৫টি  এলাকায় গ্যাস নেই গত চার দিন ধরে। এদিকে গ্যাস না থাকায় আবাসিক এলাকার লোকজন রান্না-বান্না নিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এসব এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে গ্যাস নেই। তাঁদের অনেকেই গ্যাসের চুলার পাশে মাটির চুলা বসিয়ে বিকল্পভাবে রান্না করছেন। ছোট ছোট ফ্ল্যাট বাসায় যাঁরা ভাড়া থাকেন, তাঁদের অনেকেই রাইস কুকার দিয়ে রান্নার কাজ করছেন। সিলিন্ডার কিনে বা ভাড়া নিয়ে রান্নার কাজ সারছেন অনেকে। কেরোসিনের চুলা, মাটির চুলায় বা ছাদে কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করছেন অনেকে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা আজিরন বেগম। তার বাসায় ৮ জন সদস্য। তিনি জানান, কাল পরশুদিন চিড়া মুড়ি খেয়েছিলাম। আজকেও  চিড়া মুড়ি খাইছি। চুলা নাই, গ্যাস নাই, রান্নার জায়গা নাই। এইভাবে কতোদিন থাকবো। লাকড়ি পর্যন্ত পাওয়া যায় না। কেরোসিন ১২০ টাকা লিটার।

মেডিক্যাল অফিসার সোহেল রানা বলেন, গ্যাস না থাকায় রেস্টুরেন্টে খাবার কিনে খাচ্ছি। এদিকে বাচ্চারা দু’দিন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অস্বস্তি বোধ করছে। কিন্তু কিছুই করার নেই বাধ্য হয়ে এগুলো খাওয়া লাগছে।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে মিলনমেলা

মৌচাক এলাকার পোশাক শ্রমিক মরিয়ম খাতুন শুক্রবার বলেন, গ্যাস না থাকায় অনেক কষ্টে আছি।  ভেবেছিলাম ছেলেমেয়েদের একটু রান্না করে খাওয়াবো কিন্তু গ্যাস না থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি।

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খাত্তাব মোল্লা বলেন, গ্যাস লাইনে কাজ চলমান থাকায় তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে গ্যাস সংযোগ। আমার ওয়ার্ডেই ২০০টির বেশি রাইজার রয়েছে, যেগুলো বন্ধ। এখানে অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাজ করেন। তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ।

তিতাস গ্যাস জোনাল মার্কেটিং অফিস চন্দ্রা এড়িয়া কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলেন, গ্যাস লাইনের সমস্যার কারণে সংযোগ বন্ধ রয়েছে। রাস্তার কাজ চলমান ও জমি অধিগ্রহণের কারণে গ্যাসের লাইনে কাজ করতে হচ্ছে। কাজ শেষ হতে আরও ৭ দিন সময় লাগতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন