শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
দশ কোম্পানির দখলে ৩৮ ভাগ লেনদেন

নিরাপদ বিনিয়োগে পুঁজিবাজার

নিরাপদ বিনিয়োগে পুঁজিবাজার

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। ওই সময় মূলধন পরিমাণ বেড়েছে। ডিএসইএক্স ছাড়া অন্য দুই ধরনের সূচক (ডিএসই৩০ ও ডিএসইএস) পতন হয়েছে। হাউজগুলোতে বিক্রয়ের চেয়ে ক্রয়ের চাপ বেশি। ফ্লোর প্রাইজের কারণে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যেও মোট লেনদেনের ৩৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার ১০ কোম্পানির দখলে। ওই কোম্পানিগুলো লেনদেন করে ২ হাজার ১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর পুঁজিবাজারে সরকারি বন্ডের লেনদেন শুরু হয়। এরপরের ৪ কার্যদিবস ডিএসইতে ২৫০ বন্ডের লেনদেন হয়। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন ২ লাখ ৫২ হাজার ২৬৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেড়ে ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছিল। এরপর গত ২৭ অক্টোবর বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার মূলধন বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ৮৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১০ অক্টোবর ২৫৩ বন্ডের লেনদেন হয়। এতে সিএসইতে বাজার মূলধন ৩ লাখ ১২ হাজার ৭৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৯৪ টাকায়। গত ২৭ অক্টোবর বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার ২০১ কোটি ৯ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার মূলধন বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  বন্যা ভয়ঙ্কর জলবায়ুর প্রভাবে

ডিএসইর সূত্রমতে, গেল সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৫৮৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৫২ দশমিক ৭২ শতাংশ। ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৭১৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৯৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১২১টির, দর কমেছে ৪৬টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২২২টি কোম্পানির। লেনদন হয়নি ৯টি কোম্পানির শেয়ার।

সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স উত্থানে লেনদেন শেষ হয়। এক সপ্তাহে ব্যবধানে ডিএসইএক্স ৩২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪১০ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই৩০ সূচক ১২ দশমিক ৮২ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২ হাজার ২৫২ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪০১ দশমিক ১০ পয়েন্টে।

এদিকে গেল সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৪ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে। যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৮ শতাংশ।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। সেই হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর পিই দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসাবে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  টিকা বিক্রিতে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা : স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

গেল সপ্তাহে এ ক্যাটাগরির ৮০ ভাগ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লেনদেনে অবস্থান করেছে। এছাড়া বি ক্যাটাগরির ১০ শতাংশ এবং এন ক্যাটাগরির ১০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর টপটেন লেনদেনে রয়েছে। সপ্তাহটিতে মোট লেনদেনের ৩৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার ১০ কোম্পানির দখলে রয়েছে। ওইসব কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর (এ ক্যাটাগরি) শেয়ারে। কোম্পানিটি একাই মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ লেনদেন করেছে। সেরা লেনদেন হলেও গেল সপ্তাহে কোম্পানি শেয়ার দর কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। এছাড়া ওরিয়ন ফার্মা (এ ক্যাটাগরি) ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, নাভানা ফার্মা (এন ক্যাটাগরি) ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ইস্টার্ন হাউজিং (এ ক্যাটাগরি) ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, জেনেক্স ইনফোসিস (এ ক্যাটাগরি) ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বসুন্ধরা পেপার (এ ক্যাটাগরি) ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ, ইন্ট্রাকো (এ ক্যাটাগরি) ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (এ ক্যাটাগরি) ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ, সী পার্ল বিচ (বি ক্যাটাগরি) ২ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিং (এ ক্যাটাগরি) ২ দশমিক ২৮ শতাংশের শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের এ ক্যাটাগরির শেয়ার বি ও জেড ক্যাটাগরির থেকে তুলনামূলক ভালো কোম্পানি। নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই এ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা বি ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই জেড ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া এন ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো এন ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাড়ছে বাজেট সহায়তা ছাড়

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন