রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গ্রামে মাল্টার বাণিজ্যিকচাষ

গ্রামে মাল্টার বাণিজ্যিকচাষ

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল মাল্টা ধীরে ধীরে বানিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করছেন অনেকেই। বগুড়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও চোখে পড়ছে। বিশেষত শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি, দেউলি, রায়নগর, কিচকসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখন চোখে পড়ে মাল্টার বানিজ্যিক চাষ। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহযোগিতায় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বারি-১ জাতের মাল্টা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক বছর যাবৎ চাষ করছে বিভিন্ন কৃষি উদ্যোক্তা। শিবগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশিক্ষণহীন চাষীর কৃষিতে এমন সাফল্য দেখে অভিভূত অনেকেই।

উথলি এলাকার তৌহিদ ও সহিদ দুই ভাই আম, লিচুসহ অন্যান্য ফল চাষ করতেন। চারবছর আগে উদ্যোগ নেন মাল্টা চাষের। অল্প সময়েই সফল হয়েছেন তারা। বর্তমানে ৬ বিঘা জমিতে চাষ করছেন। এযাবৎ বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ৫লক্ষ টাকা। এবছর সর্বনি¤œ ৪লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তারা। নিজেদের শ্রমের পাশাপাশি দিনমজুর নিয়েও পরিচর্যা করতে হয় গাছগুলোর। মাল্টা চাষের পাশাপাশি কিছু লেবুও চাষ করেন তারা। মাল্টা চাষে অল্প সময়ে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন তারা।

মাল্টা চাষের সবচেয়ে সুবিধা হলো, শুধুমাত্র প্রথমবার চারা রোপন করতে হয়। এরপর প্রতিবছর একই গাছে মাল্টা চাষ সম্ভব হয়। সেক্ষেত্রে খরচটাও প্রথম বছরের মত করতে হয় না। ২য় বছর থেকে ওষুধ ও পরিচর্যার মাধ্যমেই মাল্টা চাষ হয়। প্রতি বাংলা সনের বৈশাখ মাস গাছে মুকুল আসে। বিভিন্ন পরিচর্যা ও নিয়মের মধ্য দিয়ে মোট ৮মাসে এক মৌসুমের মাল্টা চাষ হয়। সারিবদ্ধ প্রতিটি গাছে এক মৌসুমে গড়ে ২মণ মাল্টার ফলন পাওয়া যায়। ব্যয় হয় প্রতিবছর সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে এক মৌসুমে মাল্টা চাষে লাভ করেন প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। ধারাবাহিকভাবে মাল্টা বিক্রি করেন বগুড়া শহরের ফল আড়তে। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও আসেন পাইকারী দরে মাল্টা নিতে।

আরও পড়ুনঃ  ভূরুঙ্গামারীতে মিষ্টি কুমড়া চাষে কৃষকের মুখে হাসি

মাল্টা বাগানের মনোরম দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় মুহূর্তেই। মিষ্টি স্বাদে রসালো সবুজ মাল্টা প্রতিটি ডালে ফলেছে থোকায় থোকায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মাল্টা চাষ ইতোপূর্বে দেখেননি অনেকেই। তাই সরাসরি মাল্টা বাগান দেখতে আসেন অনেকেই। এলাকাবাসীও বেশ উৎসাহ দেন উদ্যোক্তাদের। মাল্টা চাষী সহিদ মিয়া জানান, প্রথমে খুব বেশি ভরসা পাননি মাল্টা চাষে। কিন্তু পরবর্তীতে নিয়ম মেনে সুন্দর একটি পরিবেশের মধ্য দিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে তাদের। এছাড়া বিভিন্ন সময় কৃষি কর্মকর্তাদের থেকে পান পরামর্শ।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কে.এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, মাল্টা চাষ অন্যান ফসল/ফলের তুলনায় লাভজনক। উথুলির মাল্টা চাষীদেরকে লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওয়াত প্রতি শতকে ৩টি চারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তাদের সহযোগীতা করা হয়। তাছাড়া তাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। মাল্টা চাষে বৃদ্ধিতে আগ্রহী করতে কৃষকদের নিয়ে আমার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শ্রমেই চাষ উপযোগী জমিতে যে কেউই শুরু করতে পারে মাল্টা চাষ। ধীরে ধীরে বাড়ছেও আগ্রহ। চাষীরাও নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় এ ফলটি খুব সম্ভাবনাময়। উৎপাদন ভালো হওয়ায় চাষীদের কাছেও বাণিজ্যিক চাহিদা বেড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর চাষাবাদও অনেক বেড়েছে আগের তুলনায়।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন