শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার ফর্মুলা এ দেশে চলে না

আমেরিকার ফর্মুলা এ দেশে চলে না
  • সুদের হার বাড়ানো উচিত নয়: সভাপতি, এফবিসিসিআই
  • অর্থপাচারকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে

বাংলাদেশ থেকে যারা অর্থপাচার করে তাদের ধরে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়ানো উচিত হবে না বলে জানিয়েছেন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

গতকাল শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ইআরএফ ডায়ালগ’-এ সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ দাবি জানান। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও বার্তা সংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ এম শফিকুল আলম।

দেশে চলমান ডলার সংকটের সঙ্গে অর্থপাচারের কোনো সম্পর্ক আছে কি না কিংবা বলা হয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থপাচার করা হয়, আসলে বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার বেড়েছে কি না? সাংবাদিকের এ দুই প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, কেন ডলার সংকট এটা আমি, আপনি সবাই জানি। যারা বলছেন আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে, ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে তারা স্পেসিফিক (নির্দিষ্ট করে) ধরে ফেললেই হয়। এ রিপোর্ট যারা দেয় তারা স্পেসিফিক ধরে ফেলুক। আমরাও চাই যারা পাচারকারী তাদের ধরা উচিত। কথার কথা বলার চেয়ে আমার মনে হয় অ্যাকশনে যাওয়া উচিত।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে, ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে, পাচার হচ্ছে। কারা পাচার করছে আমি আর ওখানে যেতে চাই না। যদি ব্যবসায়ীরা করে থাকে, ম্যাকানিজমটা আপনাদের সামনেই আছে। পাচার হওয়ার রিপোর্ট যদি আসে, তাহলে কে পাচার করেছে সে খবরও তাদের কাছে আছে। তাদের উচিত পাচারকারীদের ধরা এবং পানিসমেন্টে নিয়ে আসা। মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এ ধরনের যারাই আছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার এবং এদের শেষ করা দরকার। এই যে বলার জন্য বলা মুখরোচক কথা বলা, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  কূটনীতির চাপে রাজনীতি

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমেরিকা সুদের হার বাড়িয়েছে ডলার আরও শক্তিশালী করার জন্য। যেন আমাদের মতো ছোট-খাটো দেশগুলো আরও বিপদে পড়ি। সুতরাং ওদের ফর্মুলা আমাদের দেশে চলবে বলে আমার ধারণা নেই। আমি যতটুকু বুঝি, এ মুহূর্তে সুদের হার বাড়ানো ঠিক হবে না। সুদের হার যদি বাড়ানো হয় তাহলে ইন্ডাস্ট্রিগুলো আরও বেশি বিপদে পড়বে।

ব্যবসায়ীদের এই নেতা আরও বলেন, ছয়-নয় যেটা বলছেন- ‘ছয়’ কিন্তু নেই। ব্যাংকগুলো এখন সাত, সাড়ে সাত পর্যন্ত দিচ্ছে। যেহেতু নিচের লিমিট ছয় নেই, ফলে উপরের লিমিট উঠাতে চাচ্ছি না। উপরের লিমিট উঠে গেলে ইন্ডাস্ট্রিগুলো সক্ষমতা হারাবে। ইনফ্লেশন কন্ট্রোল করার জন্য কিন্তু আমাদের উৎপাদন বাড়ানো দরকার। জ্বালানির ওপর সরকার যদি আমাদের সাবসিডারি বাড়িয়ে দেয় তাহলে ইনফ্লেশন কমানো সম্ভব। আইএমএফের ঋণ বিষয়ে অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই আমাদের ফরেন কারেন্সির দরকার আছে, গ্যাপটা মিনিমাইজ করার জন্য। তার অর্থ এ নয়, আমাদের সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, তাদের ঋণে তো তারা শর্ত দেবেন। তবে যে শর্ত আমেরিকার জন্য প্রযোজ্য হবে, একই শর্ত বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হবে কি না। যে শর্ত ভারতের জন্য প্রযোজ্য হবে, একই শর্ত বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হবে কি না। সেই সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করার।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ আমাদের জন্য বড় ইস্যু। কোভিডের সময় শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখার কারণে আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ভালো ছিলো। তিনি বলেন, জ্বালানি গ্যাসের জন্য আমরা সাফারিং করছি। আমরা যদি সাপ্লাই দিতে না পারি তাহলে তো বায়াররা আমাদের অর্ডার দেবে না। বায়াররা যদি ফিল করে বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার পর গ্যাস-বিদ্যুৎ থাকবে না, এজন্য প্রোডাক্ট পাবো না, তাহলে তারা বাংলাদেশে আসবে না। বাংলাদেশের বিজনেসটাও নিয়ে যাবে। যদি একবার সেটা নিয়ে যায়, তবে ফিরিয়ে আনা ডিফিকাল্ট। আমি মনে করি এ জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ‘চাল জোটে, তেল-তরকারি ভাগ্যে নেই’

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন