রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হাতির প্রতি নিষ্ঠুরতা ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত

হাতির প্রতি নিষ্ঠুরতা ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত

‘হাতি হাদানি’

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাইটল এলাকায় বাচ্চা হাতিকে নিষ্ঠুরভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাখা চেয়েছেন আদালত। মৌলভীবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান বাচ্চা হাতির ওপর শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

প্রশিক্ষণের নামে হাতির উপর চালিত অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করে মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দি পিস (১৮৯৮ এর ২৫ ধারার ক্ষমতা বলে) মৌলভীবাজার জেলার জাস্টিস অব দি পিস মুহম্মদ আলী আহসান অত্র আদেশ জারি করেন। গত সোমবার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এবং প্রাণীকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী হাতির প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতন নিরসনে জুড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, মৌলভীবাজার’র নিষ্ক্রিয়তা বে-আইনী গণ্যেও কেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে মর্মে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশও দেওয়া হয়। উল্লেখিত তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও কারণ দর্শানোর জবাব দাখিলের জন্য ধার্য করা হয়। 

উল্লেখ্য, ‘হাতি হাদানি’ নামক প্রাচীন পদ্ধতিতে বন্য হাতিকে উক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পোষ মানানো হয়। হাতিকে শিশু অবস্থায় দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছের খুঁটির সাথে আবদ্ধ করা হয়, শিশু হাতির মাকে দূরে রাখা হয়, নির্দয়ভাবে শিশু হাতিকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং যথেষ্ট খাদ্য প্রদান করা হয় না। এভাবে ২ মাস প্রশিক্ষণ দেয়ার পর সার্কাসে বিভিন্ন কসরৎ এবং গাছ পালা পরিবহনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email
আরও পড়ুনঃ  ভুলে ভরা জাতীয় পরিচয়পত্র

সংবাদটি শেয়ার করুন