সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলের দৃষ্টান্ত স্থাপন

বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে জেলের দৃষ্টান্ত স্থাপন

দেশজুড়ে বেহুন্দি বা বাধা জাল, চরঘেরা ও কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা ইলিশসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ডিম ও রেনুপোনা নিধন করা হচ্ছে। এতে মৎস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বরিশালের বানারীপাড়ায় পরিমল রায় নামের এক জেলে বেহুন্দি জাল জমা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কম্বিং অপারেশনের অংশ হিসেবে জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাছের রেনুপোনা নিধনে ব্যবহৃত অর্ধলক্ষাধিক টাকার বেহুন্দি জাল জমা দেন তিনি।  এ বেহুন্দি জাল দিয়েই পরিমলের ৪ সদস্যের সংসারে কোনমতে ভরণপোষন চলতো। মূলত ওই সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিয়ে সে তার ভুল বুঝতে পারে। পাশাপাশি অতীত কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার দহনে দগ্ধ হয়ে তার শুভবুদ্ধির উদয় ঘটে। পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দি জালটি জমা দেওয়ায় তার সংসারের ভরণপোষণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও সে এখন থেকে সৎ পথে আয় করার অঙ্গীকার করেছে।

জেলে পরিমল রায় বলেন, বেহুন্দি জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছের ডিম ও রেণুপোনা নিধন করে আমি ভুল করেছি। ১৬ জানুয়ারী উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদ বাড়ি জেলে পল্লীতে মৎস্য অফিসের সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিয়ে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার হাতে জালটি দিয়ে আমার ৪ সদস্যের পরিবারে আহার জুটতো। জালটি জমা দিয়ে আমি অনিশ্চিত পথে পা বাড়ালেও এখন থেকে সৎভাবে বাঁচতে চাই।

বানারীপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিমল রায় মৎস্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সে তার আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল বেহুন্দি জালটি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। সে যাতে সৎভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য সুতার জাল কিনে দেওয়াসহ তাকে পুনর্বাসনে মৎস্য দপ্তর তার পাশে থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটে পৃথক মামলায় দুই ভাই সহ ৩জনের যাবজ্জীবন

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন