রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরার প্রতাপনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার জরুরি

সাতক্ষীরার প্রতাপনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার জরুরি

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাধ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকারদারের বিরুদ্ধে। চলমান এ কাজে অভিযোগের বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন। গত সোমবার পরিদর্শন শেষে সঠিক নিয়মে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও ২১ সালের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়ার্স পরবর্তী হরিশখালির ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধটি নির্মাণ সংস্কার কাজ দু’বছর ধরেও সম্পন্ন হয়নি। এতে ২০২০ সালের ২০ মে আম্পান ঝড়ে প্রতাপনগর ইউনিয়নে মাইলের পর মাইল বেড়িবাঁধ ভেঙে ২২ গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে কোটি কোটি টাকার মৎস্যঘের, ফসলের ক্ষেত, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডুবে গিয়ে অর্থনৈতিক ও সামজাকি অবস্থা ভেঙে পড়ে। কিছুদিন পর রিংবাঁধ দিয়ে কয়েকটি গ্রামে জোয়ার ভাটা সাময়িকভাবে আটকানো হয়। তবে ঠিক পরের বছর ২০২১ সালের ২৬ মে ইয়াস ঝড়ে প্রায় সব রিংবাঁধ ভেঙে ফের তলিয়ে যায় গোটা এলাকা। পরবর্তীতে শীতের আগে নদীর স্রোত কম হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন ও নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দাউদ আলী গাজীর নেতৃৃত্বে শতশত মানুষ রিংবাঁধ দিয়ে এলাকায় জোয়ার ভাটা বন্ধ করে। এরপর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মূল বাঁধের কাজ শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, তারা আর খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের জলে ফের ডুবতে চান না। প্রতাপনগরের কোলা গ্রাম ও হরিশ খালির দক্ষিণ পশ্চিম অংশের প্রায় ১১ কিমি. সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কোনো স্থানে এক ফুট, কোনো স্থানে দুই ফুট সরু বেড়িবাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে। যা যেকোন সময় ভেঙে আবারো প্লাবিত হওয়ার শংঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিনাইদহে বিপুল পরিমান সরকারি ঔষধ জব্দ

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিনিধি সৈয়দ আছাদুজ্জামান চান্দু বলেন, পানি উন্নয়নবোর্ড তথা সরকার নিয়ন্ত্রিত ড্রেজারে বালু তুলতে না দেওয়ায় কাজের দেরি হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করব বলে আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি।

পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন বলেন, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের জোয়ারে যাতে নতুন করে বন্যার সৃষ্টি না হয় সে জন্য সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ঠিকাদারকে দ্রুত কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে প্রতাপনগরে দুর্ভোগ কমবে। ভাঙন আতংক কাটাতে ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন