সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী লড়াইয়ে ২৮ ইঞ্চি প্রার্থী

নির্বাচনী লড়াইয়ে ২৮ ইঞ্চি প্রার্থী

মশুর ভোটে জয়ী হওয়া দরকার। এতে প্রতিবন্ধীতা সর্ম্পকে মানুষের ধারণা বদলে যাবে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে লড়াইয়ে নেমেছেন ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থী মশু। ষষ্ঠধাপে অনুষ্ঠেয় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য প্রার্থী  হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন তিনি। সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার কদমতলা গ্রামের হরমুজ আলী ও চায়না দম্পতির সন্তান মশু। খর্বাকৃতির মশু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, মশুর বাবা জীবিত থাকলেও তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। মা চায়না মশুর আট বছর বয়সেই মারা যান। চার ভাই ও একবোনের মধ্যে মোশাররফ হোসেন মশু দ্বিতীয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২০ আগষ্ট ১৯৯৫। তার বয়স ২৬ আর উচ্চতা ২৮ ইঞ্চি। ওজন ৩৮ কেজি। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। দারিদ্রতা আর অর্থসংকটে পড়ালেখা করতে পারেননি। তার ইচ্ছা জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে অন্য প্রার্থীর মতো মশুরও দম ফেলার ফুসরত নেই। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন।

সদস্যপদে ভ্যানগাড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এ ওয়ার্ডে তার বিপরীতে লড়ছেন আরও পাঁচ প্রার্থী। মশুর সাহস আর অদম্য ইচ্ছে দেখে বিস্মিত এলাকার মানুষ।  স্থানীয় ভোটারা জানান, আর্থিক সংকট থাকায় ভোটাররাই ব্যানার, পোস্টার করে তার পক্ষে গণসংযোগ করছেন। তাদের আশা ভোট যুদ্ধে বিজয়ী হবেন মশু। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, এখানে সবাই মশুর কথা বলছেন। ভোটে জিতবে কী জিতবেনা না সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু সে সাহস করে ভোট করছে এতেই আশ্চর্য  হচ্ছে মানুষ। একই এলাকার আজম আলী জানান, শরীরে সমস্যা আছে কিন্তু যে কোনো কাজে সে পরিশ্রমী ও খুব চেষ্টা করে। আমরা চাই মশু বিজয়ী হোক। আরেক বাসিন্দা আজিজুল বলেন, ছোট থেকেই ওর খুব ইচ্ছে মানুষের উপকার করার। সব কাজ সে করতে পায়, চলাচলে একটু সমস্যা হলেও আমি চাই মশু ভোটে জিতুক। ওই এলাকার স্কুল শিক্ষক সুলতানা পারভীন বলেন, মশুর ভোটে জয়ী হওয়া দরকার। মানুষের ধারণা বদলানো দরকার। প্রতিবন্ধী যে সমাজের বোঝা নয় তা করে দেখাচ্ছে মশু। মনের ইচ্ছাই বড় ইচ্ছা, সেটা সে ভোটের মাঠে দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  করোনায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি

মশু বলেন, জনগণ আমার সরলতা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আমি গরীব মানুষ। আমরা বিগত দিনগুলোতে আমাদের মত গরীব মানুষরা হক ঠিকমত বুঝে পাইনি। সেই হক বুঝে পেতেই আমার নির্বাচন করা। আমার টাকা নেই, ভোটারাই টাকা খরচ করে আমার নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি আমি বিজয়ী হব। আর নির্বাচিত হলে জনগনের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করব। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, মশু শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও নির্বাচনে তার আইনগত কোনো বাধা নেই।

আনন্দবাজার/এম,আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন