বৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাউফলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, বাড়ছে চুরি-ডাকাতি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন গ্রামে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরির ঘটনা। চুরিসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অপরাধ দমনে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালালেও থামানো যাচ্ছে না এসব কর্মকাণ্ড।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশ প্রকৃত চোর-ডাকাতদের আটক করতে না পারায় তারা বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

জানা যায়, চুরির ঘটনা অধিকাংশই রাতের বেলা বিভিন্ন গ্রামে সংঘটিত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রবাসী, চাকরিজীবী, কৃষক পরিবার সহ দরিদ্র পরিবার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত এক মাস ব্যবধানে উপজেলার প্রায় ৩-৪ টা স্পটে দুর্ধর্ষ চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত (১১ই ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাছিপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদার বাড়ির দুবাই প্রবাসী রিয়াদ হাওলাদার এর বসতঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় ডাকাত দল ওই ঘরে পাশের রুমে ভাড়া থাকা আনারকলি জামে মসজিদের ইমাম বজলুর রহমান এর কক্ষ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৭ সাত ভরি স্বর্ণ সহ নগদ অর্থ লুটপাট ও ভাঙচুর করে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রবাসী রিয়াদ হাওলাদার ও ইমাম বজলুর রহমান এর পরিবারের নগদ অর্থ সহ প্রায় দশ লক্ষ টাকা লুটপাট করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাতিয়ে নেয় ডাকাত দলের সদস্যরা। এ ঘটনার তিনদিন আগে ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের শানেরশ্বর গ্রামে শাহজালাল হাওলাদার (বিন্দু)’র ঘরে স্বর্নালংকার ও নগদ অর্থ সহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে হাতিয়ে নেয় চোর চক্রের সদস্যরা। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় অজ্ঞাতনামা দিয়ে মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  স্থাবিরতা কাটলো না চা-শিল্পে

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এর আগেও উপজেলার রামনগর এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যাক্তির অটোরিকশা, কাছিপাড়ার দরিয়াবাদ থেকে রিপন নামের এক ব্যাক্তির একটি বেটারী চালিত অটোরিকশা,পশ্চিম বীরপাশা ইউসুফ খান নামের এক কৃষকের ৪ টি গরু চুরি, গোপালিয়া পশ্চিম কাছিপাড়া থেকে ৩ টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার এ পর্যন্ত ক্লু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে। ফলে জড়িতরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ ব্যাপারে একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিনিয়তই চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট হলে প্রযুক্তির যুগে সনাক্ত করতে পারছে না ডাকাতদের এবং উদ্ধার করতে পারছেনা মালামাল। এলাকার মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িরা এসব চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায় এড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। যার ফলে হতাশায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

তবে এ বিষয় বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন আনন্দবাজারকে বলেন, ডাকাতদের উপদ্রব রুখতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির সকল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কয়েকজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পর্যাক্রমে তদন্ত সাপেক্ষে বাকি আসামিদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন