বুধবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘লাফিয়ে পড়া ফারদিন মাথায় ভারী আঘাতে মারা গেছে’

‘লাফিয়ে পড়া ফারদিন মাথায় ভারী আঘাতে মারা গেছে’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশ লাফিয়ে পড়ে মাথায় ভারী আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এ এফ এম মুশিউর রহমান।

প্রতিবেদনে কিছু পাওয়া যায়নি। ক্যামিক্যাল বা বিষ জাতীয় কোনও পদার্থের উপস্থিতি তার শরীরে নেই। মাদকের কোনও উপস্থিতি নেই। সে লাফ দিয়ে পড়ে আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তার শরীরের কোথায় কোথায় আঘাত ছিল তা আগেই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আমরা বলে দিয়েছি বলে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন।

প্রসঙ্গত, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও ছায়া তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব ফারদিনের আত্মহত্যার কারণে উল্লেখ করেছে, ফারদিন নদীতে লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। গত ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হন ফারদিন। এরপর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পর দিন ৮ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে ফারদিনের মাথার বিভিন্ন অংশে ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ। চিকিৎসক বলেন, ‘নিহত ফারদিনের মাথার পুরো অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া তার বুকে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এটি হত্যাকাণ্ড। কারণ, আঘাতের চিহ্নগুলো স্বাভাবিক না।’

উল্লেখ্য, ফারদিন নিখোঁজের পরদিন ৫ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন। লাশ উদ্ধারের পর হত্যা মামলা করা হয়। এই ঘটনায় তার এক বান্ধবীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফারদিনকে চনপাড়ায় নয় অন্য কোথাও হত্যা করেছে- ডিবি

ফারদিন বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবেরও যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকার কাজী নুর উদ্দিনের ছেলে। থাকতেন ডেমরার কোনাপাড়া শান্তিবাগ এলাকায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে ফারদিন সবার বড়।

আনন্দবাজার/কআ

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন