শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নাব্যসংকটে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর

নাব্যসংকটে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর
  • বাঘাবাড়ি-চট্টোগ্রাম নৌরুটে নাব্যতা সংকট
  • কর্মহীন ৫ শতাধিক শ্রমিক

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর-চট্টোগ্রাম ও মংলা  নৌবন্দর রুটের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বড়াল নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই অস্বাভাবিক হারে নাব্যতা হ্রাস পেয়ে ডুবচর জেগে উঠেছে। ফলে চট্টোগ্রাম ও মঙ্গলা নৌবন্দর থেকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরগামী রাসায়নিক সার, কয়লা, পাথর, সিমেন্ট ও জ্বালানী তেলবাহী কার্গো-জাহাজ পূর্ণলোড নিয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে যেতে পারছে না। ফলে পাটুরিয়া ও নগরবাড়ির আগেই লাইটারেজের মাধ্যমে জাহাজ থেকে অর্ধেক মাল আনলোড করে বেড়া, নগরবাড়ি ও যশোরের নওয়াপাড়া ঘাটে খালাস করছে। এতে জাহাজ শুন্য হয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর অচল হয়ে পড়েছে। অপরদিকে নগরবাড়ি, বেড়া ও যশোরের নওয়াপাড়ায় থেকে ১০ চাকা অথবা ১৬ চাকার ট্রাকে করে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের বাফার গুদামে সার এনে এরপর উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কের ক্ষতির পাশাপাশি সঠিক সময়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে আসন্ন সেচ মৌসুমের আগে ইরি-বোরো আবাদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক সার মজুদে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আসন্ন সেচ মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির আশংকা করছে কৃষকরা। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানে কৃষকরা অবিলম্বে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এ নৌরুটের ডুবচর গুলি অপসারণ করে সঠিক মাত্রার ড্রাফট ফিরিয়ে আনতে বিআইডব্লিউটিএ এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে পণ্যবাহী জাহাজ না আসায় বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে কর্মরত প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ২৮ ডিসেম্বর পৌরসভায় ভোট

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরাচিথুলিয়া গ্রামের কৃষক সোহেল মোল্লা, আব্দুল আলিম ফকির, রেশমবাড়ি গ্রামের ফিরোজ হোসেন, বৃ-আঙ্গারু গ্রামের শামীম হোসেন, পোতাজিয়া গ্রামের আজম আলী জানান, সঠিক সময়ে সার মজুদ না হলে উত্তরাঞ্চলে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে আসন্ন ইরি-বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়ার আশংকায় আমরা শংকিত হয়ে পড়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা দূর করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোর দাবী জানাচ্ছি।

এদিকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের শ্রমিক আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ৪০ বছরেও বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে এ ভাবে জাহাজ শুন্য হয়নি। ডুবচর ও নাব্য সংকটের কারণে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ না আসায় তাদের ৫ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পরিজন নিয়ে তারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা জানায়, গত ১৫ দিনের মধ্যে একটি সারবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে এলে শ্রমিকরা কাজে ঝাপিয়ে পড়ে। এতে কিছু সময়ের জন্য বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। শ্রমিকরা কাজ পেয়ে উল্লসিত হয়ে ওঠে। ১ ঘন্টা পর কাজ শেষ হলে বন্দরটি আবার অচল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, চর নাকালিয়া, পেচাকোলা, মোল্লার চর, ব্যাটারির চর, পাটুরিয়া, নিকলি এলাকায় নদীর পানির নাব্য কমে যাওয়ায় অনেক ডুবচর জেগে উঠেছে। ফলে পূর্ণলোডে পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে আনা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর জাহাজ শুন্য হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। তিনি এ সমস্য সমাধানে দ্রুত নৌ ড্রেজিং করতে বিআইডব্লিউটিএ এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরও পড়ুনঃ  বসছে না কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী 'ঠান্ডা কালীর' মেলা

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর লেবার এজেন্ট আবুল সরকার বলেন, কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাঘাবাড়ি ঘাট ইজারা নিয়েছি। জাহাজ না আসায় আমাদের প্রায় ৫ শতাধিক লেবার বেকার হয়ে পড়েছে। আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তিনিও এ নৌপথ সচল করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের নৌ পথে কোন নাব্য সংকট নেই। এখানে ৮ থেকে ১০ ফুট পানির ড্রাফট রয়েছে। তিনি বলেন, এটা দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দর। ফলে এ বন্দর চ্যানেলে নিয়ম অনুযায়ী ৭ থেকে ৮ ফুট ড্রাফটের জাহাজ চলার কথা। নিয়ম অমান্য করে সেখানে ১০/১২ ফুট ড্রাফটের জাহাজ নিয়ে গেলে তো সমস্যা হবেই। তিনি আরও বলেন, এ বন্দরটি প্রথম শ্রেণিক বন্দরে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এটি হয়ে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

এ ব্যপারে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে অবস্থিত পরিবহণ ঠিকাদারের অফিসের কেউ কথা না বলায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের বাফার গুদামের ইনচার্জ হারুন আর রশিদ বলেন, বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ না এলেও বাঘাবাড়িসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে ইরি-বোরো আবাদের জন্য আপদকালীন সার মজুদের কাজ পুরোপুরি ভাবে চলছে। ট্রাকযোগে সার পরিবহণ করা হচ্ছে। ফলে আসন্ন সেচ মৌসুমে সার শংকটের কোন সম্ভাবনা নেই। এ বিষয়ে কৃষকদের আতংকিত না হওয়ার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন