শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হাওয়াই মিঠাই বেচে জীবিকা

হাওয়াই মিঠাই বেচে জীবিকা

ফরিদপুর পৌরসভার গোয়ালচামটের ১ নম্বর  সড়কের বক্কার নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন লুৎফর রহমান (৩৮)। গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলাতে। তিনি বিবাহিত এবং দুই কণ্যা এক ছেলে আছে তার। লুৎফরের নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাইতো অভাবের সংসারে বেঁচে থাকার যুদ্ধে টিকে থাকতে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে চলছে তার সংসার।

হাওয়াই মিঠাই এই শব্দটার সাথে বাঙালি অত্যন্ত পরিচিত। তাই যুগযুগ ধরে চলা এ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ও নিজের জীবনের তাগিদে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া তার। স্বাবলম্বী হতে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে এগুতে থাকেন তিনি। অবিরাম পরিশ্রমে সংসারের অভাব দূর হয়। দিনে দিনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাবলম্বী হয়ে উঠছেন সে।

শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, শিশুদের অতি প্রিয় এ মিঠাই এখন ফরিদপুর শহরে নিয়মিত বিক্রি করছেন লুৎফর। যেখানেই প্রাথমিক, মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা, গ্রামে গ্রামে বা কোন মেলা উৎসব, সভা হয় সেখানেই চমকপ্রদ হাওয়াই মিঠাই বানিয়ে হাজির হন তিনি। হাওয়াই মিঠাই বানিয়ে শিশু, কিশোরদের মন জয় করার চেষ্টায় সে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সাথে  জীবিকাও নির্বাহ করছেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, ফরিদপুরে হাওয়াই মিঠাই চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। আগে গ্রামাঞ্চলে বিক্রি ভালো হলেও ইদানিং শহরের বেঁচাকেনা ভালো হচ্ছে। বর্তমানে তিনি জেলা প্রশাসন স্কুল, সানরাইজ  স্কুল রেইনবো স্কুল, শিল্পকলা একাডেমীর সামনে নিয়মিতভাবে বিক্রি করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ভারত-তুরস্ক থেকে ফিরলেন ১৮৯ জন বাংলাদেশি

লুৎফর রহমান জানান, বিশেষ করে শিশুরাই এর প্রধান ক্রেতা। পাঁশাপাশি অনেক লোক বিভিন্ন বয়সী মুরব্বিরাও এই খাবারটি পছন্দ করেন। মুখে দেওয়া মাত্রই এই খাবারটি গলে যায় ;যে কারণে অনেকের কাছে এই খাবারটি আশ্চর্যজনক। তবে তার আক্ষেপ, হাওয়াই মিঠাই কতদিন ধরে শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশে কবে আসলো এর কোন সঠিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি।

হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা লুৎফর রহমান জানান , তার কাছে দুই রকমের হাওয়াই মিঠাই পাওয়া যায়। একটি সাদা অপরটি গোলাপী । এরমধ্যে সাদা রংয়ের হাওয়াই মিঠাইয়ের চাহিদা বেশি থাকলেও গোলাপি রঙের মিঠাই ভালোই বিক্রি হচ্ছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, যদি সরকার থেকে সহজ শর্তে তাকে লোন পাওয়ার ব্যবস্থা করতেন; তাহলে তিনি ব্যবসাটাকে বড় করতে পারতেন। এছাড়া রাস্তার পাঁশে ছোট একটা জায়গা দিলেও তিনি ব্যাবসাটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। একই সাথে তার ব্যাবসারও প্রসার ঘটাতে পারতেন।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন