শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাস ডাকাতির ক্লু উদঘাটন ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

বাস ডাকাতির ক্লু উদঘাটন ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

জায়েদা পরিবহন নামের একটি বাসে যাত্রীবেশে ওঠেছিল অজ্ঞাতনামা ০৬ জন ডাকাত। তারা সুযোগ বুঝে বাসের ড্রাইভার সুমন মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এরপর যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মোবাইল, হ্যান্ডব্যাগ এবং স্বর্ণ লুট করে ডাকাতরা। গত ৮ নভেম্বর রাত সাড়ে সাতটার দিকে রংপর-ঢাকা মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে দুর্ধষ্য এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আপেল মাহমুদ নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। এরপর ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রাফতার করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পীরগঞ্জ থানা পুলিশ একদিনের ব্যবধানে ঘটনার ক্লু উদঘাটন করে ডাকাত দলের ৩জন সদস্যকে গ্রেফতার করেন। রংপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, ডাকাতির বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পিবার সকাল ছযটার দিকে পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের কাটাদুয়ার সংলগ্ন হলদিবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, নওগার রানীনগর উপজেলার বিলকৃষ্নপুর গ্রামের জমিন সরদারের ছেলে রেজাউল করিম (৩২), মানিকগঞ্জের ঘিউর উপজেলার বেরাডাংগা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে খোরশেদ আলী (৪৫) ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বড় শিমুলতলা গ্রামের হবু সরকারের ছেলে জহরুল সরকার (৩৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৫টি চাকু ও ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ উদ্ধার করা হয়।

বাসচালক সুমন মিয়া জানান, জায়েদা পরিবহন নামে বাসটি ৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলী থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে গাবতলী থেকে চন্দ্রা পযন্ত আরো ৪৭ জন যাত্রী বাসে ওঠে। এরপর বাসটি রাত ড়েটার দিকে বগুড়ায় হোটেল বিরতি দেয়। বিরতি শেষে যাত্রী নিয়ে পুনরায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে  গোবিন্দগঞ্জ পার হওয়ার পরে বাসটিতে যাত্রীবেশে ওঠা ৬ জন ডাকাত বাসচালক সুমন মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লুটপাট চালায়। ডাকাত দলের একজন বাসের গেটে দাড়িয়ে থাকে আর বাকিরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুটপাট চালায়। এরপর বাসটি পীরগঞ্জ থানার বিটিসি মোড় সংলগ্ন শোলাগাড়ী আসলে ডাকাতরা লুন্ঠিত মালামালসহ বাস থেকে নেমে চলে যায়। বাস থেকে নামার সময় ডাকাতরা বলে, আমাদের কাছে বোমা আছে কেউ চিৎকার করলে বোমা মেরে গাড়ি জ্বালিয়ে দেব। 

আরও পড়ুনঃ  মুজিববর্ষ-স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পর্দা উঠছে বুধবার

পীরগঞ্জ থানার ওসি জাকরি হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৩/৮ টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন