রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বেড়েছে মশার যন্ত্রণা ডেঙ্গু আতঙ্কে দর্শনা

বেড়েছে মশার যন্ত্রণা ডেঙ্গু আতঙ্কে দর্শনা

সন্ধ্যা নামার পর থেকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় চলছে মশার উপদ্রব। বাসিন্দাদের জনজীবন মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে এলাকাবাসী রীতিমতো ডেঙ্গু ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মশার যন্ত্রনায় ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। সচেতন মানুষ বলছেন মশক নিধন কর্মসূচি না থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।      

পৌর শহর এলাকার বাসিন্দারা জানান, মশার উপদ্রবে সন্ধ্যার পর ঠিকভাবে কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। বিকেল হলেই ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রেখেও নিস্তার মিলছে না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বেশি বিপাকে আছেন অভিভাবকেরা। এলাকাবাসীর দাবী দর্শনায় অবস্থিত কেরু এন্ড কোম্পানির  বর্জ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাব ও মিলের বর্জ্যপানি নিস্কাশন লাইনের পাইপ ফেটে নোংরা পানি বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় মশার উৎপাত দেখা দিয়েছে। তাছাড়া পৌর এলাকায় যত্রতত্র ময়লার স্তুপ ও পানিনিষ্কাশনের ড্রেনে জমে থাকা পানি ও ময়লা পরিস্কার না করার কারণে মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

দর্শনা পৌর শহরের আজমপুর এলাকায় বসবাস করা জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে মশার যন্ত্রণায় ঘরে বসে থাকা যায় না। সারাক্ষণ শরীরের খোলা স্থানে কামড়ে ফুলিয়ে দিচ্ছে। কয়েল জালিয়েও কাজ হয় না। বর্তমানে এক আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। সন্তানকে নিয়ে বেশ ভয়ে আছি।

স্কুল ছাত্রী নুসরাত জাহান রাকা বলেন, সন্ধ্যায় একটু মন দিয়ে পড়বো তার উপায় নেই মশার জন্য। বিকেল না হতেই কানের কাছে ভনভন করে মশা। এমন পরিস্থিতিতে কয়েল ব্যাবহার করতে হয় । কিন্তু কয়েলের ধোঁয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, যার কারনে মশারি টাঙিয়ে পড়াশুনা করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  হাতিয়ায় পাওয়ারটিলার খাদে পড়ে নিহত ৩

একই এলাকায় আরেক বাসিন্দা নুরুল আলম বাকু বলেন, দিনে রাতে সমানতালে উপদ্রব চালাচ্ছে মশা। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশা নিধনে কোনো কর্মসূচী চোখে পড়েনা। দেশজুড়ে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করলে পাশের পৌরসভায় মশক নিধন অভিযান চালালেও এখানে মশা নিধনে কিছুই করা হয়নি। যদি মশা নিধনে এখনই কোনো ব্যাবস্থা নেয়া না হয় তাহলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা সংক্রমক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। আসোলে জনগনের প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।    

ক্ষোভ প্রকাশ করে অনলাইন মার্কেট প্লেসের ওয়েবসাইটে (ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং) কাজকরা রাকিব সুলতান খান (রিয়েল) বলেন, সারা দিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই কাজ করি। কিন্তু মশার উৎপাতে ঠিকমতো কাজ পারি না। মশা তাড়াতে কয়েল ব্যবহার করেও কাজ হয় না।

রেলবাজারের ব্যাবসায়ী ফারদিন সোহেল বলেন, মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে গেলাম। সন্ধ্যা নামলেই মশা কানের পাশে গান বাজাতে থাকে। সারাদিন ব্যাবসার কাজে ব্যাস্ত থাকার পর বাড়িতে গিয়েও শান্তি নেই মশার জন্য। কয়েল জ্বালিয়ে মশা তাড়াতে হয়। বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দেশজুড়ে। তাই সংশ্লিষ্টদের মশা নিধনের ব্যাপারে কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিৎ।

জানতে চাইলে দর্শনা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, আমাদের পৌরসভার ফগার ম্যাশিন নষ্ট ছিলো যার কারণে আমরা মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। আমরা সেটা ঠিক করেছি আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করবো। এ ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার

আরও পড়ুনঃ  হামের রেড জোন কক্সবাজার

অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া আছে শহরের কোথাও যেন ময়ালা আবর্জনা জমে না থাকে। পানি নিষ্কাসনের ড্রেনে যেন সবসময় আবর্জনায় জমা হয়ে বন্ধ না হয়ে থাকে সেদিকে নজর রাখতে। এবং তা যথা সময় পরিস্কার করতে। একই সাথে আমি পৌর এলাকার সকল নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন