রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৭০ শতাংশ লিভার ক্যানসারের কারণ হেপাটাইটিস বি

৭০ শতাংশ লিভার ক্যানসারের কারণ হেপাটাইটিস বি

বাংলাদেশে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লিভার ক্যানসার হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণেই হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস।

হেপাটাইটিস বি নির্মূলে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১-এর কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) এসব তথ্য জানানো হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলোজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ডা. মামুন বলেন, দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে যে মানুষগুলো প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন, তাদের ১০ থেকে ১২ শতাংশ লিভার রোগে আক্রান্ত। এমনকি তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আবার হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত লিভার রোগে আক্রান্ত। শুধু তাই নয় আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোর মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিবছর যে হতভাগ্য রোগীরা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের এক তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারণ এই লিভার রোগ।

লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শুধু মানুষ মৃত্যুবরণই করছেন তা নয়, এ রোগে প্রতিবছর ব্যয়ও হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। পৃথিবীর আর সব দেশের মতো বাংলাদেশেও ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নির্মূলের সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে, আমাদের এখনো ঘাটতি রয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ আর বিশেষায়িত লিভার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের। তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ মানুষকে সচেতন করা।

ডা. মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১২ জনে একজন হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত। এই আক্রান্ত মানুষগুলোর ১০ শতাংশেরও জানা নেই যে তারা এমন কঠিন রোগে ভুগছেন। এর বড় কারণ এসব রোগীদের লিভার অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের রোগের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না বললেই চলে। কাজেই হেপাটাইটিস বি নির্মূলের এসডিজি গোলটি অর্জন করতে হলে সবার আগে জোর দিতে হবে জনসচেতনতা তৈরিতে ও ব্যাপকভিত্তিক স্ক্রিনিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোগী শনাক্তে।

আরও পড়ুনঃ  হরতালে বাস চালানোর ঘোষণা মালিক সমিতির

রোটারি ক্লাবের ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ইঞ্জিনিয়ার এম এ ওয়াহাব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, রোটারি ক্লাব বাংলাদেশ থেকে পোলিওমুক্ত করণে ভূমিকা রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় হেপাটাইটিস বি নির্মূলেও আমরা কাজ শুরু করেছি। এ উদ্দেশ্য মাথায় রেখেই রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নির্মূলে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। হেপাটাইটিস বি নির্মূলে হাজারও সচেতন রোটারিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে আপনাদের সবার সহযোগিতায় আমরা এসডিজি গোল ৩ দশমিক ৩ অর্জনে বদ্ধপরিকর। এখন থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সচেতন করে তোলা ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করার জন্য রোটারির উদ্যোগে ডিস্ট্রিক্টব্যাপি সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

গবেষণায় দেখা যায়, এ দেশে ১০ লাখ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পেছনেই ব্যয় হয় কম করে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একইভাবে হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ৫০ শতাংশ বাংলাদেশের নাগরিকের চিকিৎসার ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে তিন বিলিয়ন ডলারে।

পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এদের মধ্যে বেশিরভাগই বাস করেন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, যেখানে আমাদেরও বসবাস। প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে সংক্রমিত যারা প্রত্যেকেই জীবনের কোনো একটা পর্যায়ে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে স্কুলপর‌্যায়ে যদি সচেতনতা তৈরি করা যায়, তাহলে হেপাটাইটিস বি অনেকাংশেই কমে যাবে বলে মত প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  কনডেম সেলে মিন্নি 

আনন্দবাজার/কআ

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন