মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শুধু আহরণ-সরবরাহেই চমক

শুধু আহরণ-সরবরাহেই চমক

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছে জেলের জালে। আহরণে দেখা গেছে চমকের পর চমক। আবার ফিশারিঘাটগুলোতেও দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। বাজারে সরবরাহও ব্যাপক। তারপরও প্রশ্ন থেকেই যায়। পাতে কেন পড়ছে না ইলিশ। এবার ভরা মৌসুমেও নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে আসেনি ইলিশের দাম। সাইজের ওপর নির্ভর করা এ মাছের দাম সব সময়ই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকায় ক্ষোভও প্রচুর।

এমন ক্ষোভের মধ্যেই আজ থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা, বাজারজাত করা, বিপণন বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কেউ কাউকে উপহার হিসেবেও দিতে পারবেন না। এ সময় করা যাবে না ইলিশ সংরক্ষণ। ফলে নদীতে সাগরে যা ইলিশ ধরা পড়ছে সবই বাজারে আসছে। এ কারণে বাজার ভরা ইলিশ দেখতে ভালো লাগলেও কেনার সাধ্য নাই অনেকের।

তবে মৎসমন্ত্রীর দেয়া তথ্য চমক সৃষ্টি করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, গত ১২ বছরে দেশে ইলিশ আহরণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এ সময়ে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার প্রায় ৯০ শতাংশ। মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে দেশে ইলিশের উৎপাদন, আহরণ আর সরবরাহ বেড়েছে প্রচুর। তবে কেন কেউ ইলিশ পাতে পাচ্ছেন না?

এমন কৌতুহল নিবৃত্ত করেছেন মন্ত্রী নিজেই। তিনি বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বেশ কিছু দেশে ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি হয় ভারতে, সেখান থেকে বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। হাইকোর্ট যদি কোনো আদেশ দেয় তাহলে অবশ্যই সেটি মেনে চলতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে ইলিশের রপ্তানি এভাবে হয়নি, এবার যে পরিমাণ রপ্তানি হয়েছে। এবার অধিকাংশ রপ্তানি ভারতে হয়েছে। তবে আমার অভিমত দেশের সব মানুষ ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করুক।

আরও পড়ুনঃ  পাবনার কাটাখালী গ্রামকে লকডাউন ঘোষণা

সাম্প্রতিক বাজারে দেখা গেছে, এক কেজি সাইজের ইলিশ ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ যদি দেড় কেজি ওজনের হয়, তাহলে তার দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। এই দামে এক কেজি ইলিশ মাছ কেনার ক্রেতা কম হলেও অবিক্রিত থাকে না এসব মাছ। বিক্রি হচ্ছে সব সাইজের মাছই। আবার ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৫০০ টাকা। ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হলে দাম কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম নয় ইলিশের তবুও দাম চড়া। অন্যদিকে মাছ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরবরাহ থাকলেও ভারতে রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কারণে বাজারে বড় সাইজের ইলিশের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। বড় সাইজের ইলিশই ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। ব্যাপক চাহিদার কারণেই ছোট সাইজের ইলিশের দামও চড়েছে।

অবশ্য সাধারণ ক্রেতারা পাতে না পেলে কী হবে, ইলিশের সুখবর দিচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্যমতে, প্রতিবছরই বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২ লাখ টনের ঘর। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদন হতো ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৯১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টন। এ বছর এর উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী তথ্য দিচ্ছেন, অন্যান্য কয়েকটি দেশেও ইলিশ গেছে। সেগুলো উপহার কিংবা ব্যক্তিগতভাবে গেছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ভারতে। আগে ইলিশ পাওয়াই যেত না এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন ইলিশ অনেক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে, আমার মনে হয় ৬৪টি জেলার সর্বত্র ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে ইলিশ পৌঁছানোর আমাদের একটি লক্ষ্য আছে। কর্মসূচি সফল করতে পারলে ইলিশ সবার কাছে পৌঁছাবে। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ইলিশ রপ্তানি বাড়ানো আর ঠিক হবে না।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন