সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কমলে জ্বালানির দাম সমন্বয় হবে: তথ্যমন্ত্রী

কমলে জ্বালানির দাম সমন্বয় হবে: তথ্যমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসবে, সেটি যখন বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করবে তখন জ্বালানি তেলের মূল্য তখন সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ও সমসাময়িক বিষয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের অর্থনীতিতে এতো ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়, প্রতিদিন ১০০ ডলার করে গত তিন মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। তখন সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম কমে আসলে তার প্রভাব আমাদের দেশে পড়তে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। তখন আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

তেলের সংকট প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের জন্য ইউরোপের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হচ্ছে জার্মানি। সেখানে জ্বালানি সংকটের জন্য সাশ্রয়ী উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যুতে রেশনিং করা হচ্ছে। ফ্রান্সেও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। বিধিনিষেধের ব্যত্যয় ঘটলে ৭৫০ ইউরো জরিমানা ঘোষণা করেছে।

গ্রিস ও ইতালিতেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে। হাঙ্গেরিতে এনার্জি ইমারজেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিককে বার্তা দিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংকটের প্রেক্ষাপটে আমাদের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে। আমি জনগণের কাছে অনুরোধ জানাবো বিশ্ববাজারে যখন তেলের মূল্য কমে আসবে সেটি যখন বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করবে তখন জ্বালানি তেলের মূল্য তখন আবার সমন্বয় করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  আজ দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

বিষয়টি নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে মন্তব্যে করে হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের অনুরোধ জানাবো বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকাতে। সরকার যে গত বছর ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। এ বছরও কি ৫৩ হাজার কোটি টাকা বা বিপিসির পক্ষে প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব? সেটি কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সেটি সম্ভব নয় বিধায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের অনেক শক্তিশালী দেশ ও জাপানও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নীতি নিয়ে চলছে। সংকটময় পরিস্থিতির জন্যই বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলে তার প্রভাব আমাদের দেশে পড়তে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। তখন আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

একদিনে এতো টাকা বাড়ানো হলো, এটা মানুষের জন্য বোঝা কি না ও ইউরোপ আমেরিকার মতো দেশের সঙ্গে তুলনা করা কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য আপনাদের সামনে ডাটা তুলে ধরেছি। আর আমাদের পরিস্থিতি আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। ভারতের অর্থনীতি আমাদের থেকে অনেক বেশি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। যদিও মাথাপিছু আয়ে তাদের আমরা ছাড়িয়ে গেছি। ভারতে জ্বালানি তেলের যে মূল্য আমাদের দেশেও একই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নেপালসহ অন্যান্য দেশে মূল্য কিন্তু আরও অনেক বেশি।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়, আর দাম কমলে সেটা দুই মাস পরে প্রভাব পড়ে এটা কি আপনার কাছে মনে হয় না ব্যালেন্সে বৈষম্য হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, এটা একটা বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। যখন বিশ্ব বাজারে দাম কমে তখন এর প্রভাব পড়তে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। এজন্য যে দাম কমলে আজই বাংলাদেশে চলে আসে না। আসতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই মাস। বিশ্ব বাজারে দাম বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেশে দাম বাড়ে এটা ঠিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  কটিয়াদীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুষ্ঠিত

যখন ১৭০ ডলারে উঠেছে তখন আমরা দাম বাড়াইনি। যখন দেখতে পারছি যে কোনোভাবে আমাদের অর্থনীতিতে এত ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়ে, প্রতিদিন ১০০ ডলার করে গত তিন মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। তখন সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ব বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে সমন্বয় করা হবে বলে তিনি জানান।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সরকার পরিবহন ভাড়াও নির্ধারণ করে দিয়েছে তারপরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে সব পণ্যের দাম বেড়েছে, যা ঠিকমতো মনিটরিং হচ্ছে না এটার দায়িত্ব কে নেবে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার থেকে যদি কেউ ভাড়া বেশি নেয় সেটা অন্যায়। সরকার নিশ্চয়ই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এটির প্রভাব অন্যান্য পণ্যের ওপর এখনই পড়ার কোনো কারণ নেই।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন