শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
প্রথম শ্রেণীর নাঙ্গলকোট পৌরসভা

সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি, ভোগান্তি চরমে

সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি

উন্নয়নের জোয়ারে দেশ যখন ভাসছে। এ উন্নয়নের ছৌঁড়া থেকে বাদ পড়েনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভাও। ২০০২ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের দিকে পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যদিও প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তার উন্নয়ন হয়েছে চোখে লাগার মতোন।

আর এ পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্র নাঙ্গলকোট পৌর বাজার গরু বাজার। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সিএনজি যোগে নিজ বাড়ি কিংবা দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। আর এ গরু বাজার সড়কে পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু এ পানি অপসারণের জন্য কোন উদ্যোগ নেই পৌর প্রশাসনের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাঙ্গলকোট গরু বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডে ঢুকার সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। ওই সড়কের দু’পাশে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, সোনালী ব্যাংক, নাঙ্গলকোট হোটেল, ঔষধের দোকান সহ ২৫-৩০টি দোকান। এ সব দোকানে যেতে হলে কাঁদামগ্ন পানির উপর দিয়ে হাটতে হয় মানুষদের। আবার ওই পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ একটু বৃষ্টি হলে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। মাসের পর মাস পানি জমে থাকলেও অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। পৌর মেয়র আব্দুল মালেক এরিমধ্যে কয়েক বার এসে দেখে যাওয়ার পরও কোন কাজ হয়নি। যার ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয় ভুক্তভোগী হোটেল ব্যবসায়ী সোহগ মিয়া বলেন, গত দু’মাস ধরে এখানে পানি জমে আছে। পাশাপাশি দুটি ব্যাংকের টয়লেটের ময়লার পানিও এ সড়কের ওপর এসে পড়ে। ফলে পানি থেকে দুর্গন্ধ চড়াচ্ছে। তাই মানুষজন আগের মতোন এখান দিয়ে চলাচল করে না। দোকানে কাস্টমারও তেমন হয় না। তাই প্রতিদিন লোকসান গুনতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  কি‌শোরগঞ্জে ২৯ জ‌নের নমুনায়, ১৮ জনের প‌জিটিভ 

ব্যবসায়ী আলা উদ্দিন বলেন, এখানে সাবেক ধান বাজার ও ছাগলের হাট। পুরো বাজারে পানি যাওয়ার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এ সড়কে ড্রেন না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলে হাঁটু সমান পানি হয়ে যায়। পরে এ পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। পৌর মেয়র আব্দুল মালেক কয়েক বার এসে দেখে যান। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। ব্যবসায়ী লোকসান দিতে হচ্ছে। দোকানে মানুষ আসে না।

সিএনজি চালক স্বপন বলেন, সিএনজি নিয়ে এ পানি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কি করবো কিছুই করার নেই। কারন এখানে সিএনজির গ্যারেজ রয়েছে।

নাঙ্গলকোট এ আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র রিজোয়ান বলেন, এ সড়কে সব সময় পানি জমে থাকে। তাই এখান দিয়ে চলাচল করি না। আবার পানি থেকে চড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র আব্দুল মালেক বলেন, এখানে আগে পানি মজে থাকতোনা। ভূমি অফিসের পাশের ড্রেন বন্ধ করে দেয়াই এখন পানি মজে থাকে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে পানিগুলো দ্রুত অপসারণের জন্য কাজ করবো। সোনালি ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া কে বার বার নোটিশ করার পরও তারা ময়লার পানি এ সড়কের ওপর পালাচ্ছে। তারা আমার কথা না শুনলে, আমি কি করবো।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন