রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে পানি

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে পানি
  • ঘরগুলো নদীর খুব নিকটে হওয়ায় সহজে পানি ঢুকেছে
  • আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১ ঘরসহ বাঁধের বাইরের ঘরগুলোতেও পানি আছে

মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নে মনু নদীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১টি ঘরসহ বাঁধের বাইরে বসবাসকারী পানি প্রবেশ করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘরে পানি অবস্থান করছে। যদিও বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত রবিবার রাতে এসব ঘরে পানি প্রবেশ করে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পানি কোমরের উপরে উঠে যাওয়ায় রাতেই এসব ঘরের নারী, শিশু, বৃদ্ধ রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেকে’ই আবার এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর করার তীব্র সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, বর্তমানে পানি বিপদ সীমার খানিকটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ সময় কিছু কিছু জায়গায় বাঁধের অবস্থা খারাপ সেগুলোতে আপনারা কী কী প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান -আমাদের লোকজন মেরামত করছে। আমরা সার্বক্ষনিক নজরে রাখছি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, ৭ উপজেলার ৪২ ইউনিয়নের ৪০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যায় ২ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ১ হাজার ৩০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এদিকে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। হাকালুকি হাওর পারে অধিকাংশ নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দেয়।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, ইউনিয়নের ভুকশিমইল, বাদে ভুকশিমইল, কাড়েরা, কোরবানপুর, সাদিপুর গৌড়করণ এসব গ্রামের অনেক নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে এখানে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অসহায় পরিবারকে ঘর দিলো পুলিশ

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, মৌলভীবাজারে ৭ উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২১০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি ১৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় জন্য ৬০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব মেডিকেল টিম সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে বলেও উল্লেখ্য করেন জেলা প্রশাসক।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন