শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সখীপুরের বাঁশে বড় বাণিজ্য

সখীপুরের বাঁশে বড় বাণিজ্য
  • মাসে দেড় কোটি টাকার বাঁশ যাচ্ছে সারাদেশে

টাঙ্গাইলের সখীপুরের বাঁশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নে দেওদিঘীর পাড়ে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাঁশের হাট বসে। এ হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাঁশ কিনতে যান।

জানা গেছে, সখীপুরের মাটি বাঁশ চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত হওয়ায় এখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের চাষ হয়। বাঁশ আবাদের তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে। একবার বাঁশের চারা লাগালে চার থেকে পাঁচ বছর পর তা থেকে বাঁশ কাটা যায়। প্রতিটি মাঝারি ঝাড় থেকে বছরে ৮০ থেকে ৯০টি বাঁশ পাওয়া যায়। সখীপুর-গোড়াই সড়কের দেওদিঘীর পাড়ে প্রায় ৩একর জায়গায় সোমবার বসে হাট। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ইশ্বরদীসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা বাঁশ কিনতে আসেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সেই বাঁশ ট্রাক ভর্তি করে নিজ এলাকায় নিয়ে যায়। হাটের দিন ছাড়াও প্রায় প্রতিদিন চলে বাঁশ বেচাকেনা। পাইকাররা প্রতিদিনই সরাসরি কৃষকের বাঁশ ঝাড় থেকেও বাঁশ ক্রয় করে।

ঘর তৈরি, পানের বরজ, সবজি চাষের মাচা, মাছ ধরার সরঞ্জাম, বাঁশের তৈরি নানা ধরনের আসবাব থেকে শুরু করে আধুনিক ডেকরেটরদের বিভিন্ন কাজে বাঁশের ব্যবহার এসব অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয় হওয়ায় ব্যাপারীরা এখান থেকে বাঁশ কিনে নিজেদের হাটে বিক্রি করে থাকেন। এখানে বাঁশের দাম নাগালের মধ্যে থাকায় সকল ক্রেতারা খুশি। দেওদিঘীর এই বাঁশের হাটটি এলাকার বেকারদের জন্য করে দিয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রতিদিন এই বাঁশ বিক্রিকে কেন্দ্র করে শতশত দিনমজুর কাজ করে। কেউ ঝাড় থেকে বাঁশ কাটে, কেউ সেগুলো বাজারে আনার কাজে ব্যস্ত, কেউ করে বাঁশ ট্রাকে উঠানোর কাজ, কেউবা করে বাঁশের স্তুপ সাজানোর কাজ, আবার কেউবা করে দূর-দুরান্ত থেকে আসা বাঁশ পরিবহন থেকে নামানোর কাজ।

আরও পড়ুনঃ  দাম কমে যাওয়ায় লেবু চাষিরা হতাশ

দিনমজুর আব্দুল মান্নান জানান, এই বাঁশে হাটকে কেন্দ্র করে সারা উপজেলায় প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। কাজ কওে প্রতিদিন প্রায় ৮শ থেকে ৯শ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায় বলেও তিনি জানান।

বেতুয় গ্রামের মবিন আলী বলেন, বাঁশ চাষ অনেক লাভজনক। বাঁশ আবাদে তেমন কোনো খরচ নেই । একবার বাঁশের চারা লাগালে চার থেকে পাঁচ বছর পর তা থেকে বাঁশ কাটা যায়। আমি বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করি। বাঁশ চাষ লাভজনক তাই এখন অনেকে বানিজ্যিকভাবে এ চাষ শুরু করছে।

সারাসিয়া গ্রামের চান মিয়া বলেন, ধীর্ঘদিন ধরে এই বাঁশের ব্যবসা করে আসছি। এ অঞ্চলের বাঁশের ব্যপক চাহিদা রয়েছে সারাদেশে। আকার ভেদে প্রতিটি বাঁশ দেড়শ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা পর্যন্ত পাইকারি  বেচাকেনা হয়। হাটের দিন ছাড়াও প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২থেকে ৩লাখ টাকার বাঁশ বেচাকেনা হয়।

ঢাকার পাইকার আদম আলী বলেন, এ হাট থেকে প্রতি সোমবার ২লাখ থেকে ৩লাখ টাকার বাঁশ ক্রয় করি। ঢাকায় আামাদের নিজের আড়ত রয়েছে সেখানে নিয়ে বিক্রি করি। প্রতি হাটে কমপক্ষে ২০ লক্ষাধিক টাকার বাঁশ কেনাবেচা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী খোরশেদ বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এখান থেকে বাঁশ ক্রয় করে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি; এতে আমাদের ভালোই লাভ হয়।

দেওদিঘী বাজার ইজারাদার ইয়াসিন আলী বলেন, প্রতি সোমবার এখানে বিশাল বাশেঁর হাট বসে। ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। দেশেরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা বাঁশ কিনতে আসে এ হাটে। প্রতি হাটের দিন ২০ লক্ষাধিক টাকার বাঁশ কেনাবেচা হয়। হাটের দিন ছাড়াও প্রায় প্রতিদিন চলে বাঁশ বেচাকেনা । প্রতি মাসে সারা উপজেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার বাঁশ বিক্রি হয় বলেও তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন