শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্যাকেজ

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্যাকেজ

আগামী অর্থ বছরের বাজেটে করোনা সংকটে বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশুনার খরচ, তিনবেলা খাবার জোটাতে না পেরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া মানুষের কাজের ব্যবস্থা করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর দেয়া হবে। আসছে বাজেটে কী পদক্ষেপ নেয়া যায় তার সুপারিশ চেয়ে এরই মধ্যে সরকারি

-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

করোনার প্রকোপ গত বছরের শেষ সময়ে কিছুটা কমলেও নতুন বছরের শুরু থেকেই আবার বাড়তে শুরু করেছে। এতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে করোনার প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কৌশল গ্রহণে বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশংকা সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন প্রস্তাব নিতে বলেছেন। বিশেষভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসায়ে পুঁজি সরবরাহ এবং বেসরকারিখাতের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কৌশল নিতে বলেছেন।

আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করোনার কারণে সংকটে পড়ে বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশুনার খরচ, তিনবেলা খাবার জোটাতে না পেরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া মানুষের কাজের ব্যবস্থা করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর দেয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কী পদক্ষেপ নেয়া যায় তার সুপারিশ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

আগামী অর্থ বছরে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সাধারণ আয়ের মানুষদের ওপর নতুন রাজস্বের ভার চাপাতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সম্পদশালীদের ওপর রাজস্ব পরিশোধে চাপ থাকবে চলতিবারের মতোই। রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ থাকবে আসছে বাজেটেও।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গুর ওষুধ আবিষ্কার করলো বাংলাদেশ

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, ধনী ও সম্পদশালীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধা আদায় করে নিতে পারলেও কম আয়ের বেশির ভাগ মানুষ তা পারে না। তাই আগামী বাজেটে অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে ধনী ও দরিদ্র্যের মধ্যে ব্যবধান কমাতে গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে ধনী ও দরিদ্র্যের মধ্যে বৈষম্য বাড়বে। এতে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সাধারণ আয়ের মানুয়ের কষ্ট বাড়বে।

চলতি অর্থ বছরের জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড়খাত হিসাবে ভ্যাটখাত নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটের পরে আয়কর, সবচেয়ে কম শূল্ক আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতির বিশ্লেষকরা এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে আপত্তি করলেও অর্থমন্ত্রী তা আমলে আনেননি। অবাস্তব এ লক্ষ্যমাত্রায় এরই মধ্যে বড় অংকের ঘাটতি রয়েছে। আসছে বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়াতে অর্থমন্ত্রী বললেও তা মানতে জোরালো আপত্তি জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। এনবিআর বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তারা চলতি অর্থ বছরের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা আরো কমাতে আবেদন করেছেন।

আগামী অর্থ বছরে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অর্থমন্ত্রী করোনাকালিন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে কর বসানোর ঘোর আপত্তি জানিয়ে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকিবাজদের কাছ থেকে বকেয়া ও নিয়মিত আদায়ে জোর দিয়েছেন। আগামীতেও চলতিবারের ধারায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ছক কষতে এনবিআর সহজ পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভ্যাট রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে সহজখাত। ভ্যাট যোগ করে পণ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়। যা ক্রেতা নিজের অজান্তে পণ্যের মূল্য হিসাবে বাধ্য হয়ে পরিশোধ করে থাকে। ধনী দরিদ্র সবাইকে একই হারে ভ্যাট দিতে হয়। এতে নতুন কর আরোপ না করলেও করোনাকালিন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাটের ভার বহাল থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  বন্যায় সিলেট ও নেত্রকোনায় পানি বন্দি লাখো মানুষ

আগামী অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের সূত্র আঁকতে সম্পদশালীদের কাছ থেকে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এজন্য কর ফাঁকি ধরতে নতুন নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে। অর্থপাচার বন্ধে পাচার করা অর্থের ৫০ শতাংশ জরিমানা হিসাবে আদায়ের বিধান আগামীতেও বহাল থাকবে। আগামী অর্থ বছরেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার চাপের মুখে কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ রাখবেন না অর্থমন্ত্রী। সম্পদশালীদের ধরতে অর্থমন্ত্রী সারচার্জ বহাল রাখবেন।

চলতি বাজেটে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের সারচার্জ দিতে হয় না। ৩ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি পর্যন্ত ২০ শতাংশ, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদশালীদের আয়করের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হয়। আসছে অর্থ বছরের বাজেটে ছোট বড় সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কম বেশি সুযোগ দিয়ে করোনাকালিন সংকট কাটিয়ে উঠার সুযোগ দেয়ার চেষ্টা থাকবে। সবচেয়ে বেশি ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে দেশি শিল্পে। আগামী অর্থ বছরের বাজেটে হালকা প্রকৌশল শিল্পে কর অব্যহতি দেয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

আসছে বাজেটে মোবাইল ফোন, সিমেন্ট ও স্টিল শিল্পে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানা যায়। রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড়খাত তৈরি পোশাক শিল্পে করোনাকালিন সংকট মোকবেলায় চলমান সুবিধার সঙ্গে আগামী অর্থ বছরের জন্য রফতানি প্রণোদনা, গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন আছে এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য রাজস্ব ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পুঁজিবাজারে সব সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। দেশি শিল্পখাতে ব্যবহৃত অধিকাংশ কাচাঁমালের আমদানি শূল্কে ছাড় দেয়া হবে। বিশেষভাবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, লোহার রড, স্ত্র্যাব, মোটরসাইকেল ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রি, টেক্সটাইল, চামড়াখাত, পাটশিল্প, দেশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, মোবাইল, ওষুধ ও অটোমোবাইল শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কর কমানো থাকবে আসছে বাজেটেও। এসব শিল্পের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাটেও থাকবে রেয়াতি ও মওকুফ সুবিধা।

আরও পড়ুনঃ  স্বপ্ন মেলেনি ডানা

আগামী বাজেটে কৃষিখাতে ব্যাপক সুবিধা থাকবে। চলতিবারের মতো আসছে বারেও করোনাকালিন সংকটে কৃষিখাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকবে। বাজেটে কৃষি যন্ত্রপাতির দাম কমানোর চেষ্টা থাকবে, কৃষিখাতে বিনিয়োগে কর ছাড় বহাল থাকবে। ফলমুল, শাকসবজি, দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাত খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণেও রাজস্ব ছাড় বহাল থাকবে।

চলতিবারের ধারায় আসছে বারেও মাছ চাষে কঠোরতা বহাল থাকবে। মাছ চাষে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় হলে তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ রয়েছে। আগামী অর্থ বছরের বাজেটে প্রযুক্তিখাতের বিকাশেও ব্যাপক ছাড় দেয়া হবে। আসছে বারেও জাতীয় বাজেটে করোনাকালিন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা থাকবে। বাজেটে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, দেশে উৎপাদিত পেস্ট, পাউরুটি, সাবান, বোতলজাত পানি, দেশে উৎপাদিত ফলের জুন, মশলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য দ্রব্যের কোনো ভাবেই যেন না বাড়ে সেজন্য চেষ্টা থাকবে। করোনারোধে ব্যবহৃত স্বাস্থ্য সামগ্রিতে শুল্ক ছাড় আসছে বারেও বহাল থাকবে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন