বৃহস্পতিবার, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিল মালিকদের দৌরাত্ম্যে সরকারও নাজেহাল!

চালকল মালিকদের দৌরাত্ম্যে সরকারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না চালের বাজার। সরকারের আবেদন, অনুরোধ, হুঁশিয়ারি কোন কিছুতেই কমছে না চালের দাম। সর্বশেষ দাম যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে সরকার আমদানি করা চালের শুল্ক কমিয়েছে। তবে এর প্রভাব এখনও বাজারে পড়তে শুরু করেনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে (২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর) চিকন চালের দাম ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৬০ থেকে ৬৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতাশাইলের দাম ১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ৫৩ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলারদের কারণেই চালের দাম বেড়েছে। এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কারণ সরকারের মন্ত্রী এ তথ্য প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে আমদানি করা ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল ১৯ ডিসেম্বর বন্দরে পৌঁছেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও এক লাখ টন চাল একই পদ্ধতিতে ভারত থেকে আসবে। ভারতের বাইরে অন্য যে কোনও দেশ থেকে চাল আমদানি করেও মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মিলাররা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করলেও এ তথ্য ঠিক নয়। ২০২০ সালে বন্যায় পানিতে ভেসে আসা পলির কারণে ধানের গাছ উর্বর হলেও উৎপাদন কম হয়েছে। প্রতি একরে ৪০ মণ ধান হওয়ার কথা থাকলেও এবছর ২৫ থেকে ২৬ মণের বেশি উৎপাদন হয়নি। এ কারণেই চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  জেলের জালে ভরপুর মাছ

এ বিষয়ে সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, মিলারদের কারসজিতেই বেড়েছে চালের দাম। চালকল মালিকরা নানা কারসাজি করে বাজারে চালের দাম বাড়িয়েছে। চাল উৎপাদনে যে ঘাটতি হয়েছে তা মেটানোর জন্য সরকার ৫ থেকে ৬ লাখ টন চাল আমদানি করবে। সরকারি গুদামেও চাল কমে গেছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মিলার, আড়তদার, জোতদারদের যারা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারা দাম বাড়ায়। এবারও তারা সেই কাজ করছে। এই মৌসুমের সময় এখনও তারা ধান কিনছে। ধানের দাম ও চালের দাম দুটিই তারা বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছর দুই দফা বন্যার কারণে আউশ ও আমন ফলনের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান সরকারের হাতে আছে, তাতে চালের এত ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।

আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন