সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
২১টি নদ-নদী, ৭১টি নালা-খাল ও ৯৩টি ছোট বিল বিলিনের পথে

মৃত্যুপ্রায় চলনবিলের নদ নদী

২১টি নদ-নদী, ৭১টি নালা-খাল ও ৯৩টি ছোট বিল বিলিনের পথে

দখল দুষণ আর নয়, ফিরিেিয় দাও নদীর অধিকার এই প্রতিপাদ্যে ৯ অক্টোবর সোমবার গুরুদাসপুর উপজেলা মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১১টায় এ এল আর ডির আয়োজনে এবং নাটোর জেলার সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় নদ নদী রক্ষা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনও শ্যাবণী রায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকসানা আখতার লিপি, বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন, কৃষি আফিসার হারুনর রশিদ. পানাসির প্রকৌশলী সাইদুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ভরা বর্ষাতেও পানি নেই। নেই বৃষ্টিও।বেড়ি বাঁধ স্থাপন, নতুন স্থাপনা নির্মান, দখল দুষণ আর পলির স্তর জমে মৃত্যুপ্রায় চলনবিল। চলনবিলে আর দেখা যায়না পুর্বের মতো ঢেউ আর ¯্রােতের জৌলুস। নদী নালা খাল বিল মরে বর্ষায় মাছ শুন্যতা আর শুস্ক মৌসুমে খরার কারনে চৌচির মাঠ। এমন করুন অবস্থা এখন এশিয়ার সর্ব বৃহৎ চলনবিলের। বর্ষা এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চলন বিল এলাকার মাঠ-ঘাট-নদী নালা শুকিয়ে যায় দ্রæত। ফলে ফসলের ফলনও কমে গেছে পুর্বের তুলনায় অনেক।

১৯৬৭ সালে প্রকাশিত ‘চলন বিলের ইতিকথা’ বইয়ে লেখক এম এ হামিদের বর্ণনা ধরে এখন চলনবিলে গেলে হতাশই হতে হয়। দখল-দূষণে মরা খালে পরিণত হয়েছে দেশের বৃহত্তম চলনবিল। পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে বিলের বিভিন্ন খাল। নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। ফলে বিলুপ্ত হতে বসেছে বিলের জীববৈচিত্র ও মৎস্য সম্পদ। ব্যাহত হচ্ছে কৃষি আবাদও। রাজশাহী বিভাগের ৬ জেলার ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ছিল চলনবিল। বর্তমানে পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ এই তিন জেলার ১০টি উপজেলার, ৬২টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০০ গ্রাম নিয়ে বৃহত্তর চলনবিল। বিলে রয়েছে ২১টি নদ-নদী, ৭১টি নালা-খাল ও ৯৩টি ছোট বিল।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটে বৃক্ষরোপন অভিযান ওবৃক্ষ মেলা শুরু

ইম্পিরিয়াল গেজটিয়ার অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, প্রতিবছর কমছে বিলের আয়তন। ১৮২৭ সালে জনবসতি এলাকা বাদ দিয়ে চলনবিলের জলমগ্ন অংশের আয়তন ছিল ৫৫০ বর্গমাইল। ১৯০৯ সালে চলনবিল জরিপের এক প্রতিবেদনে এই আয়তন দেখানো হয় ১৪২ বর্গমাইল। হিসাব অনুযায়ী, ৮২ বছরে চলনবিলের আয়তন কমেছে ৪০৮ বর্গমাইল। উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বর্তমানে চলনবিলের আয়তন ১৬৮ বর্গকিলোমিটার। এই হিসাবে ১৯০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পরবর্তী ১১২ বছরে চলনবিলের আয়তন কমেছে ১৯৯ বর্গকিলোমিটার। প্রতিবছর গড়ে বিলের আয়তন কমছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

চলনবিলকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রতিশ্রæতি রক্ষায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করতে হবে। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নওগার আত্রাই থেকে সিরাজগঞ্জের বড়াল মুল নদী থেকে যতগুলো শাখা নদীর মুখে বাঁধ নির্মান করা হয়েছে সেগুলো খুলে দিতে হবে। প্রকৃতির উপযোগী রাস্তা, স্থাপনা ও সেতু করতে হবে বলে মনে করেন পরিবেশ বীদরা।

বিল এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চলনবিলে একসময় সারা বছর পানি থাকত। উঁচু জমিতে ফসল আবাদ, নদী-খালে মাছ শিকার চলত। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই বৃহৎ এই বিল এখন পানিশূন্য। এতে একদিকে মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি আবাদ। চাটমোহরের বোথর মাঠের নলকূপের মালিক আবদুস সালাম বলেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে ভূগর্ভে ২৭ থেকে ২৮ ফুট গভীরে পানি মিলত। এখন এক শ ফুট গভীরেও পানি মিলছে না। ফলে মাটি খুঁড়ে সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবণী রায় বলেন, বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, সংযুক্ত নালা ও খাল ভরাট, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, চাষ করা মাছ উৎপাদন ও জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণেই প্রাকৃতিক মাছ কমছে। প্রাকৃতিক মাছ রক্ষা করতে হলে অবশ্যই বিলের নালা–খালগুলো পুনরায় খননসহ বিরূপ কর্মকান্ড বন্ধ এবং মৎস্য আইন বান্তবায়ন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  বৃহস্পতিবার নয়, বুধবারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ

চলনবিল নদী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, চলনবিল রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পরিকল্পনা, ভূমি, কৃষি, পনি সম্পাদ, নৌ, স্থানীয় সরকার, মৎস্য ও পরিবেশ—সব মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সঠিক পরিকল্পনায় কাজ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্রিজ–কালভার্ট ও ¯øুইচগেট অপসারণ করতে হবে। বাণিজ্যিক পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে। তবেই চলনবিল প্রাণ ফিরে পাবে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন