শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হুমকিতে তাঁতশিল্প

হুমকিতে তাঁতশিল্প

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প হলো তাঁতশিল্প। উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের নারায়নকান্দী, ভবানীপুর এবং ভায়না ইউনিয়নের বাকচুয়া গ্রাম তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিত।

জানা যায়, জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার লালন শাহ এবং বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন তথা বাঙালি জাতির ২০০ বছরের দাসত্বের শিকল ভাঙার আন্দোলনের সেই মহানায়ক বিপ্লবী বাঘাযতীন এর জনপদ ভবানীপুর, বাকচুয়া, রায়পাড়া ভাতুড়ে, ভুয়োপাড়া, বৈঠাপাড়া, নারায়নকান্দী তাঁতীদের মাঝে বর্তমানে চরম হতাশা বিরাজ করছে। একদিকে তাঁতশিল্পের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল যেমন সুতা, রঙ, রাসায়নিক দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বর্তমানে তাঁতশিল্পের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে। কাঁচামালের দাম বাড়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক তাঁত। লোকসানে পড়ে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই।

উপজেলা পরিসংখ্যান তদন্ত কর্মকর্তা সুরুজ জামান জানান, সর্বশেষ ২০১৮ সালের তাঁতশুমারি হয়। এতে দেখা যায়, এ পর্যন্ত উপজেলাতে ১৪১ তাঁতি পরিবার আছে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আনুমানিক হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ৩শ থেকে ৪শ তাঁত পরিবার রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন বাহারিু ডিজাইনে গামছা অনেক উন্নত মানের। যা চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পোড়াদাহ বাজারে বেসরকারি উদ্যোগে রপ্তানি হয় বলে তাঁতিরা জানান। এক্ষেত্রে সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নাই।

জানা যায়, এসব এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা বেশিরভাগ তাঁতশিল্পের উপরই নির্ভরশীল। তবে, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এ ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।

তাঁতিপাড়ার রহিম মন্ডল, কামাল হোসেন, বিজয় অভিযোগ করে বলেন, সুতা, রঙ, কেমিক্যালসহ তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের সকল উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিসহ উৎপাদন ব্যয় যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সে অনুযায়ী উৎপাদিত কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। অপার সম্ভাবনাময় ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি যদি সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা যায় তবেই আমরা অর্থনিতিতে ভূমিকা রাখতে পারব। তা না হলে হারিয়ে যাবে এ শিল্প।

আরও পড়ুনঃ  মে মাসে বেড়েছে আমদানি-রফতানি

ভায়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হোসেন তুষার জানান, ঐতিহ্যবাহী এ তাঁতশিল্প রক্ষায় সবধরনের সূতা ও কাঁচামালের দাম কমানোসহ তাঁত গবেষণা স্থাপন করতে হবে। তাঁত বস্ত্রের বাজার তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ এবং প্রান্তিক তাঁতিদের সুদমুক্ত ঋণ ব্যবস্থা করা হলে হরিণাকুণ্ডুর তাঁতিরা ফিরে পাবে হারানো ঐতিহ্য।

তাঁত শিল্পের নানা বিষয়ে তুলে ধরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা জানান, এই উপজেলাতে বেশকিছু তাঁতশিল্প আছে। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। খুব শিগগিরই সরজমিনে গিয়ে এই তাঁত শিল্পটাকে পরিদর্শন করা হবে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন