শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
তিস্তা সেচ প্রকল্প-----

আমনে সাশ্রয় ২৮ কোটি টাকা

আমনে সাশ্রয় ২৮ কোটি টাকা

বর্ষার ভরা মৌসুমেও যখন বৃষ্টির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির তখন তিস্তা সেচ প্রকল্প নির্ভর কৃষকরা ফুরফুরে মেজাজেই ছিল। নাম মাত্র খরচে সেচ সুবিধা পাওয়ায় তারা আমন ধানের বা¤পার ফলন ঘটিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আমনে কৃষকদের ২৮ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় করেছে তিস্তা সেচ প্রকল্প।

নীলফামারীর ডালিয়া গ্রামে শুক্রবার বিকেলে খরিপ-২ মৌসুমে উফশী জাতের আমন ধানের আনুষ্ঠানিক ভাবে শস্য কর্তন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তনে ডালিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ব্রি ধান ৮৭ কর্তন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে পানি স¤পদ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিস্তার সেচে বাম্পার ফলনে সেখানে কৃষকদের মাঝে নবান্নের উৎসব দেখা যায়।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞা, মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম, উপ প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায়।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করে জানান, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে তিস্তা কমান্ড এলাকায় ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়। উফশী জাতের আমন ধানের শস্য কর্তন করে দেখা যায় প্রতি হেক্টরে ৬ মেট্রিকটন করে ধান উৎপাদন হয়েছে। এতে গড় হিসাবে ওই পরিমাণ জমিতে ধান উৎপাদন হবে ৩৭ লাখ ৮ হাজার মেট্রিকটন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী আসফাউতদৌলা প্রিন্স বলেন, বর্ষা মৌসুমে খরার কারণে চলতি আমন মৌসুমে ২৮ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ও ডিজেল সাশ্রয় করেছে তিস্তা সেচ প্রকল্প। সেচ সুবিধা পাওয়ায় ব্যবহার করতে হয়নি শ্যালো মেশিন বা অন্য কোনো সেচযন্ত্র। এ সুবিধা পায় কমান্ড এলাকার নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ১২ উপজেলার তিস্তা সেচ সুবিধাভোগী কৃষক।

আরও পড়ুনঃ  'ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তান্ডব ইসলামের উপর কালিমা লেপন করেছে'

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞা জানান, প্রতি বছর তিস্তার সেচ বাবদ প্রতি একর জমিতে কৃষকদের কাছ থেকে মাত্র ৪৮০ টাকা নেওয়া হয়। খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষকদের চাহিদা মতো আরও জমিতে সেচ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন তিস্তার ক্যানেল গুলো সংস্কার বা মেরামত বা সম্প্রারন করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগে এবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা দিয়ে সেচ ক্যানেলগুলো নতুন ভাবে সংস্কার ও সম্প্রসারনের কাজ চলমান রয়েছে।

পানি স¤পদ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মিজানুর রহমান বলেন, খরা মোকাবেলায় তিস্তা সেচ প্রকল্প কৃষকদের নিয়মিত সেচ দিয়ে যাচ্ছে। এর পরিধি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা তিস্তা সেচ প্রকল্পের আরও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে যাচ্ছি। এ কাজ শেষ হলে আগামী বছর আমরা আমরা ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টরে সেচ দিতে পারবো। তিনি আরও জানান, তিস্তা কমান্ড এলাকার কৃষকদের সরকারী ভাবে উন্নতজাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় সার প্রদান করা হচ্ছে। দেশের জ্বালানি সংকট থাকার পর তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে মাধ্যমে অতিরিক্ত ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। তিস্তার সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে ২৮ কোটি টাকার জ্বালানী সাশ্রয় হয়েছে। ভালো জাতের বীজ কৃষকের ব্যবহারে ফলে অল্প জমিতে বেশি আবাদ করতে পারছে কৃষক।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন