রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অভিযোজনে অর্থ সহায়তা

অভিযোজনে অর্থ সহায়তা

জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট নতুন সমস্যা সমাধানের পথ এবং বিশ্বকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা জড়ো হয়েছেন মিশরের কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে। সম্মেলনটি চলবে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এক আলোচনায় কার্বন নিঃসরণে উন্নত দেশগুলোর বেশি ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছে ছোট রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। এ নিয়ে তারা দাবি করেছেন কার্বন নিঃসরণ করের। পরিবেশ দূষণের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হওয়ায় ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। তাদের এখন আরও বেশি সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশগুলো। এসব দ্বীপ রাষ্ট্র তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে জরিমানার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলো নতুন জলবায়ুর সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে আরও আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনুন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন অনুন্নত দেশগুলোকে আর্থিক জরিমানা প্রদান করে। কারণ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ধনী দেশ ও তাদের তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি দায়ী। কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন অ্যান্টিগার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউনি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন অ্যান্টিগার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো প্রতিদিন ৩ বিলিয়ন ডলার লাভ করছে। এখন সময় হলো এই দেশগুলোর লাভ থেকে বৈশ্বিক কার্বন কর নেওয়া। পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির জন্য গঠিত তহবিলের একটি অর্থের উৎস হিসেবে তাদের কাছ থেকে এই কর নেওয়া হোক। গ্যাস্টন ব্রাউনি আরও বলেন, যখন তারা লাভ করছে, বিশ্ব তখন পুড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  কৃষি হবে জলবায়ু সহিষ্ণু

বিশ্বের আরেক ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র ভানুয়াতুর প্রেসিডেন্ট নিকেনিকে বুরোবারাভু বলেছেন, তারা চান আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত পরবর্তী প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করুক। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তাদের দ্বারা যেন পরবর্তী প্রজন্মের অধিকার খর্ব না হয় তাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে সেটি অনুন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মন্তব্যে আরও ফুটে ওঠেছে। বিশ্বের উন্নত ও ধনী দেশগুলো কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন কমানোর বিষয়ে অন্যদের চেয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করলেও তারাই গত এক শতকে বিশ্বে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বাড়িয়েছে।

এর আগে গত সোমবার মিশরের শারম-আল-শেখ এ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭ এর উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ব নেতা ও কূটনীতিকরা বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইকে মানুষের বেঁচে থাকার যুদ্ধ বলে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইয়ে আমরা হেরে যাচ্ছি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ব দ্রুতগতিতে নরকের মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র নেতারা মহাসচিবের বার্তার প্রতিধ্বনি করেন। উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে গুতেরেস বলেন, সহযোগিতা অথবা ধ্বংস: মানবতাকে এর মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসা তরান্বিত করতে ও ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার দরিদ্র দেশগুলোকে দ্রুত অর্থায়ন করার আহ্বানও জানান তিনি।

বৈশ্বিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কয়েক দশক ধরে আলোচনা চললেও রাষ্ট্রগুলো এ পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি করার তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাও অত্যধিক উষ্ণ হয়ে যাওয়া থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর মতো পর্যাপ্ত নয়।

আরও পড়ুনঃ  বাজার স্থির রাখতে ৩ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

গুতেরেস আরও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ বেড়ে চলেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিও অব্যাহত আছে আর আমাদের গ্রহ দ্রুত এমন একটি মাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা জলবায়ু বিশৃঙ্খলাকে অপরিবর্তনীয় করে তুলবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, একসঙ্গে অনেকগুলো বৈশ্বিক সংকটে বিশ্ব বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেও রাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি ত্যাগ না করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, যুদ্ধের কারণেই বিশ্বকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ছাড়িয়ে আনার উদ্যোগ তরান্বিত করা দরকার।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন