শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
অতি মূল্যায়িত জেট ফুয়েল--

পদ্মা নয় পারটেক্স

পদ্মা নয় পারটেক্স
  • বিকল্প তিন প্রস্তাব দেশি এয়ারলাইনগুলোর

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিদেশ থেকে জেট ফুয়েল আমদানি করে এককভাবে এয়ারলাইনগুলোতে সরবরাহ করে পদ্মা অয়েল লিমিটেড। সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পারটেক্স পেট্রোলিয়াম তা উৎপাদন শুরু করেছে। প্রতিদিন ২ হাজার ৮শ ব্যারেল জেট ফুয়েল উৎপাদন করবে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে প্রতিদিন ৯ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েলের চাহিদা রয়েছে। ইতিপূর্বে বিপিসি থেকে জেট ফুয়েল কিনলেও এখন বেসরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার পারটেক্স পেট্রোলিয়ামের কাছ থেকে সরাসরি উড়োজাহাজের জ্বালানি কেনার অনুমোদন চেয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনগুলো।

সচিবালয়ে গত রবিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সাথে সাক্ষাৎ করে এ সংক্রান্ত দাবি করেন এভিয়েশন অপারেটরদের সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)-এর মহাসচিব এম. মফিজুর রহমান ও সহসভাপতি আবদুল্লাহ্ আল মামুন।

এওএবির দাবিগুলো হলো, দেশীয় প্রাইভেট সেক্টর এয়ারলাইনস এবং হেলিকপ্টার অপারেটরদের জন্য সরাসরি পারটেক্স পেট্রোলিয়াম থেকে জ্বালানি কেনার অনুমোদন। প্রয়োজনে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদেশ থেকে জেট ফুয়েল আমদানির অনুমোদন ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানির দামের সঙ্গে সমন্বয় করা ।

লিখিত দাবিনামায় এওএবি আরও বলছে, বাংলাদেশে অতি মূল্যায়িত জেট ফুয়েলের কারণে এভিয়েশন খাত অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এয়ারলাইনের পরিচালনা ব্যয়ের ৪০-৪৬ ভাগই জ্বালানি খরচের ওপর নির্ভরশীল। করোনার দীর্ঘ অভিঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে এয়ারলাইনসগুলির দেউলিয়া ঘোষণা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দাবিতে বলা হয়, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য বাংলাদেশ প্রায়শই আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি দামে জেট ফুয়েল কিনতে হয়। এ কারণে জিএমজি, ইউনাইটেড এবং রিজেন্টের মতো সম্ভাবনাময় এয়ারলাইনগুলি দেউলিয়া হয়ে গেছে। জেট ফুয়েল বিক্রির একক কর্তৃত্ব পদ্মা অয়েল কোম্পানির থাকায় এয়ারলাইনগুলো প্রতিযোগিতামূলক দামে জেট ফুয়েল কিনতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিমাসে বাল্যবিয়ে ২৮৮ জনের

এতে আরও বলা হয়, অতি সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জ্বালানির দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানির দাম ৯ সেন্ট (প্রায় দশ টাকা) কমিয়ে করা হয়েছে ১ ডলার। প্রতি মাসে অভ্যন্তরীণ রুটগুলোয় ৪৪ দশমিক ৫ লাখ লিটার জেট ফুয়েল ব্যবহৃত হয়, আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য দরকার হয় ৫ দশমিক ০৩ কোটি লিটার। জেট ফুয়েলের সামগ্রিক চাহিদা বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মাত্র ৮ শতাংশ।

এওএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের ফলে অভ্যন্তরীণ জ্বালানিতে বিপিসির আয় মাত্র ২ কোটি ২২ লাখ টাকা বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে লোকসান হবে ৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা বছর শেষে ৬০০ কোটি টাকার পুঞ্জিভূত লোকসানে পর্যবসিত হবে। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির অতিমূল্যায়নের ফলে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম যাত্রীর ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে যাত্রী সংখ্যা সাধারণ চাহিদার এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর ফলে সরকারের সার্বিক কর আদায় প্রতি মাসে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকারও কম হবে।

গত বছর থেকেই ক্রমাগত বাড়ছিল জেট ফুয়েলের দাম। সবশেষ গত ২৬ অক্টোবর জেট ফুয়েলের দাম অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের জন্য ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের জন্য লিটারে ৯ সেন্ট কমিয়ে করা হয়েছে এক ডলার বা ১০২ টাকা। এ বছরের ১০ জুন ৫ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১১১ টাকা। তার আগে ১৭ মে লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১০৬ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড মৃত্যু ২৮ জনের , আক্রান্ত ১৫৩২

জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল বলছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৫৫ টাকা, মার্চে তা বেড়ে হয় ৬০ টাকা। এপ্রিলে তা ছিল ৬১ টাকা। মে মাসে দাম এক টাকা কমে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজের টিকিটের দামে। করোনামহামারির আগে যেখানে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিলো ২ হাজার ৭শ টাকা। সেটিই এখন ৫ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে আকাশপথের যাত্রীও উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে বলে দাবি দেশি এয়ারলাইনগুলোর।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন