রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বায়ুদূষণে শ্বাসবন্ধ

বায়ুদূষণে শ্বাসবন্ধ

দিল্লির বায়ু দূষণের ঘটনা কম বেশি সবারই জানা। শহরটিতে বিশেষ করে শীতকালে বেড়ে যায় অতিরিক্ত মাত্রায় দূষণ। বায়ুদূষণে বিশ্বে র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা এখন নয়াদিল্লি। বায়ুদূষণ দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠেছে শহরটিতে। বর্তমানে বায়ুদূষণের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে সাধারণ মানুষের শ্বাস নেওয়া অনেক কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ব্যাপকহারে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন নগরীর বাসিন্দারা।

দিল্লির অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। কারো বা চোখে জ্বালাপোড়া অনভূতির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অনেকের কাশি-হাঁচি থামছেই না। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। যে কারণে দিল্লি সরকার গত শনিবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে দিল্লির অর্ধেক সরকারি কর্মীকে ঘরে থেকে অফিসের কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানিয়েছে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম।

বায়ুদূষণের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকারী যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) প্রকাশিত সূচকে দেখা যায়, গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় নয়াদিল্লির বাতাসে ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫ ছিল ৩৫৩ পয়েন্ট। এর অর্থ হচ্ছে, তখন নয়াদিল্লির বায়ুমান ছিল ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে।

সিস্টেম অব এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ জানায়, দিল্লিতে বায়ুতে থাকা পিএম ২.৫ -এর ৩৪ শতাংশই নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়ার কারণে হয়েছে। পাঞ্জাবের ফরিদকোট গ্রামে ধান কাটার পর মাঠের নাড়া পোড়ানো হচ্ছে। বলা হয় দিল্লির বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ এই ধোঁয়া।

একিউআই অনুযায়ী, পিএম ২.৫ বস্তুকণা ০-৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়, ১০০ পয়েন্ট পর্যন্ত থাকলে ‘সন্তোষজনক’, ১৫০ পর্যন্ত ‘কিছু মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১-২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ পর্যন্ত ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ও ৩০১ বা এর বেশি হলে বায়ুদূষণকে ‘বিপর্যয়কর’ বলা হয়।

আরও পড়ুনঃ  গেল অক্টোবরে দেশে রফতানি কমেছে ৪ শতাংশ

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গত শুক্রবার বলেন, বায়ুদূষণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শনিবার থেকে দিল্লির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি এর ওপরের শ্রেণিগুলোর শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে যান চলাচল নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নয়াদিল্লিতে ভয়াবহ বায়ুদূষণ বিরাজ করছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ২৪ অক্টোবর দীপাবলি উৎসবের পর থেকে দিল্লিতে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি ও হাঁচি-কাশি— তিন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন বহুসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভিড় করছেন। যত দিন গড়াচ্ছে, ততই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত শুক্রবার দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, এই রোগীদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

অনেক দিন ধরে কাশি, হাঁচি হচ্ছে- এমন রোগীর সংখ্যাও সেখানে ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, শিশু ও বয়স্করা তুলনামূলক ভাবে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষণের জেরেই অধিকাংশ মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। সে কারণে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। বিশেষত, সকালের দিকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোই ভাল বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরাও। সেইসঙ্গে রোজ বেশি করে শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দিল্লির পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী গোপাল রাই বলেছেন, দিল্লি ও রাজধানীর বায়ুদূষণ দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছার কারণে দিল্লি সরকারের অর্ধেক কর্মীকে ঘরে থেকে দাপ্তরিক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অর্ধেককর্মীকে বাড়িতে অফিস করার একটি নির্দেশনা জারি করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  তিন সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করবে জেসিন্ডা

দিল্লি সরকার জানিয়েছে, শনিবার থেকে সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আপাতত খেলাধুলা থেকে বিরত থাকবে। এ ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জরুরি পণ্য পরিবহন ছাড়া রাজধানী দিল্লিতে ডিজেলচালিত ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

প্রতি শীত মৌসুমে নয়াদিল্লিতে বায়ুমানের অবস্থার চরম আকার ধারণ করে। এতে শহরটির দুই কোটি বাসিন্দা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যায় ভোগে। মূলত ঠান্ডার পাশাপাশি নির্মাণকাজের ভারী ধুলা, যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর ফসলের নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়ায় দিল্লির বায়ুমান বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন