রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে সর্বনিম্ন দামে জ্বালানি তেল

বিশ্ববাজারে সর্বনিম্ন দামে জ্বালানি তেল

বিশ্বাজারে গেলো এক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে পতন হয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশের ওপরে কমে গেছে। এছাড়া ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামেও বড় পতন হয়েছে। ফলে, এ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি গত সপ্তাহে দর ছিল ৭৯ দশমিক ৯৭ ডলার। তবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার এক পর্যায়ে তা বেড়ে ৮২ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠে যায়। এরপর থেকেই কমতে শুরু করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।

অব্যাহতভাবে দরপতনের ফলে সপ্তাহ শেষে ব্যারেল প্রতি দাম ৭১ দশমিক শূন্য ২ ডলারে ঠেকেছে। এর ফলে গত বছরের ডিসেম্বরের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এত কম দাম আর দেখা যায়নি। যদিও চলতি বছরের জুন থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এ দরপতন শুরু হয়। জুনের ৮ তারিখের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ফলে, ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৪৬ দশমিক ১৩ ডলার বা ৩৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। আর এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের বড় দরপতন হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে কমেছে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে বর্তমানে প্রতি ব্যারেরল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৭০ ডলার। জ্বালানি তেলের মতো ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলও চলতি বছরের ৮ জুনের পর থেকে দরপতনের মধ্যে রয়েছে। ৮ জুন প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১২০ দশমিক ৮৯ ডলারে ছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে এ জ্বালানি তেলের দাম। এতে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে ৪৪ দশমিক ১৯ ডলার।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার দরদাম

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরু থেকেই জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিলো। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল দাম বাড়ে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে জ্বালানি তেলের দাম এক’শ ডলার ছাড়িয়ে যাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। নিউইয়র্কভিত্তিক ফরেন এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ওনাডার বিশ্লেষক অ্যাডওয়ার্ড মোয়া ফেব্রয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে কোনো বাধা থাকবে না। তবে, এ ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়। রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম একশ ডলারে উঠে যায়। দফায় দফায় দাম বেড়ে ৮ মার্চ প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম রেকর্ড ১২৩ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠে যায়। আর প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উঠে ১১৯ দশমিক ৬৫ ডলারে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিলে ২০২০ সালের ২০ এপ্রিল বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতনের মধ্যে পড়ে জ্বালানি তেল। সে দিন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ঋনাত্মক ৩৭ ডলারের নিচে নেমে যায়। রেকর্ড এ দরপতনের পরেই অবশ্যই তেলের দাম বাড়তে থাকে। এতে রেকর্ড দরপতনের ধকল সামলে ২০২০ সালের বেশিরভাগ সময় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ ডলারে আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল।কিন্তু বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া এবং লিবিয়ার তেল উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অপরিশোধিত ও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। পতনের ধকল কাটিয়ে ওই বছরের নভেম্বর থেকে আবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। তারপরও প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ ডলারের নিচে থেকেই ২০২০ সাল শেষ হয়। পরে, ২০২১ সালের শুরুতে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। কয়েক দফা দাম বেড়ে করোনার মধ্যে প্রথমবার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ ডলারে উঠে আসে। এর মাধ্যমে মহামারি শুরু হওয়ার আগের দামে ফিরে যায় তেল।

আরও পড়ুনঃ  সিরিয়ায় রাশিয়ান বিমান হামলা, নিহত অর্ধশত

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের শুরুতে ছিল ৭৬ ডলার। সে হিসেবে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৫ ডলার।

আনন্দবাজার/কআ

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন