সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিয়ন্ত্রণে তৎপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিয়ন্ত্রণে তৎপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ইউরোপে মাংকিপক্স–

  • বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব

বিরল সংক্রমণ মাংকিপক্স সাধারণত মৃদু উপসর্গজনিত একটি রোগ। এটির সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ইউরোপে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় শাখা জরুরি বৈঠকও করেছে।

চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিকে ইউরোপে মাংকিপক্সের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব বলে উল্লেখ করেছে জার্মানি। ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য- ৯ ইউরোপীয় দেশে শনাক্ত হয়েছে মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগী ১০০ ছাড়িয়েছে। স্পেনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- ২৪ জন। এছাড়া, ইসরায়েলেও সম্প্রতি একজন রোগী মাংকিপক্সে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি পশ্চিম ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছিলেন।

মাংকিপক্স স্বল্প পরিচিত রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার উষ্ণ ও আদ্র বনাঞ্চলের বানররা ছিল এ রোগের প্রথম শিকার।তার পর একসময় মানবদেহেও সংক্রমিত হওয়া শুরু করে রোগটি। মাংকিপক্স একটি ভাইরাসজনিত অসুখ। স্মলপক্স ভাইরাস শ্রেণীর একটি ভাইরাস এ রোগের জন্য দায়ী। ভাইরাসটির দু’টি রূপান্তরিত ধরন রয়েছে- মধ্য আফ্রিকান ও পশ্চিম আফ্রিকান।

রোগটির বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ। প্রথম পর্যায়ে রোগীর জ্বর আসে, পাশাপশি শরীরে দেখা দেয় ফোস্কা ও অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলা। সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাসের মতো মাংকিপক্স ভাইরাস সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। গণসংক্রমণের ঝুঁকিও খুব কম। এতদিন কেবল মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকাতেই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর দেখা মিলত।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীলঙ্কান সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে কিলঘুষি-লাথি

এ কারণে এই ভাইরাসটি করোনা মহামারির মতো দুর্যোগ বয়ে আনবে না বলেই ধারণা করছেন সংক্রামক রোগ ও জীবাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা, তবে ডব্লিউএইচও এতটা নিশ্চিত হতে পারছে না। মাংকিপক্স রোগের জন্য এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, স্মলপক্স বা জলবসন্তের জন্য ব্যবহৃত টিকা মাংকিপক্স প্রতিরোধে ৮৫ শতাংশ কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন জনের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের জিন বিন্যাস করছেন। দ্রুতই এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন