সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটে শতবর্ষী পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটে শতবর্ষী পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • ছোট ৬টি কক্ষে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

ভোলার উত্তরের অন্যতম জ্ঞান বিতরণের বাতিঘর ‘পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বিদ্যালয়টি শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে। শতবর্ষ ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিলেও এ বিদ্যালয়টির তেমন কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। একমাত্র দ্বিতল ভবনের ৬টি কক্ষে প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাঠদানে হিমশিত খাচ্ছেন শিক্ষকরা।

সরেজমিনে জানা যায়, ১৯১১ সালে ‘পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তৎকালীন জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জ্ঞান বিতরণের আলোর দিশারী হয়ে ভোলা জেলা তথা উত্তর জনপদে শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ওই অঞ্চলকে আলোকিত করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানেও আছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০-২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৪টি এপ্লাসসহ ভালো ফলাফল করেছে। পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ভবন সংকটের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের একমাত্র দ্বিতল ভবনে রয়েছে ৭টি কক্ষ। যার একটি ক¤িপউটার ল্যাবের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। বাকি ৬টি রুমের বিপরীতে শিক্ষার্থী প্রায় ৮ শতাধিক। বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ১৬০, সপ্তম শ্রেণিতে ১২০, অষ্টম শ্রেণিতে ১৫৩, নবম শ্রেণিতে ১৭০, নিউ দশম শ্রেণিতে ১৪৪ ও দশম শ্রেণিতে ১৪০জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদানে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদেরকে গাদাগাদি করে পড়ালেখা করতে হচ্ছে। এক টেবিলে ৫ থেকে ৬জন পর্যন্ত কষ্ট করে বসতে হয় তাদের। যার কারণে পড়ালেখায় চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ক্লাস করতে চরমভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সাবেক পুরাতন ১ তলা ছোট্ট ভবনটি লাইব্রেরী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যা পুরাতন হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা খসে পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  নোবিপ্রবিতে আগুনে পুড়লো ৫০ কম্পিউটার

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি শত বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের স্কুলে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। আমাদের একমাত্র ভবনে মাত্র ৬ কক্ষ। আমাদের ক্লাসে ১৪০ ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করে। তবে কক্ষটি ছোট হওয়ায় একসঙ্গে সকল শিক্ষার্থীদের বসতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। সরকারের কাছে আরও একটি ভবন নির্মাণ করে সমস্যা দ্রুত সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

প্রধান শিক্ষক আবদুর রব বলেন, আমাদের এ বিদ্যালয়টি ভোলার পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম একটি। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষা আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ভবন সংকটের কারণে পাঠদানে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নতুন একটি ভবনের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো ভবন পাইনি। ভবন সংকট সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কাচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নকীব বলেন, ভবন সংকটের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন সংকটের এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাদব চন্দ্র দাস বলেন, পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ভোলার অনেক পুরাতন। একমাত্র ভবনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। এমন একটি আবেদন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পেয়েছি। নতুন ভবন নির্মানের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত ভবনসংকটের সমাধান হবে। ঐতিহ্যবাহী পরানগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংকট সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতা কামনা করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুনঃ  গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার বুনিয়াদী কর্মশালা

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন