সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘অটো পাসে’ শেষ হচ্ছে চলতি শিক্ষাবর্ষ!

বর্তমানে করোনার সংক্রমন প্রতিরোধে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাকার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করে ‘অটো পাসের’ চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

ওই সূত্র হতে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হলেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া হবে। আর সেটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে ‘অটো পাস’ দেওয়া হবে। উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে যুক্ত করা হবে। শিক্ষার এই ‘রিকভারি প্ল্যান’ চূড়ান্ত করতে  আগামী বুধবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এই ব্যাপারে বিইডিইউয়ের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (পরীক্ষা ও মূল্যায়ন) রবিউল কবীর চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে কীভাবে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে, অক্টোবরে বা নভেম্বরে খুললে কীভাবে চলবে সে বিষয়ে আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিয়েছি। যদি নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হয় তাহলে সংক্ষিপ্ত পরিসরে পরীক্ষা নেয়া হবে। সেটা সম্ভব না হলে আমরা অটো প্রমোশন দিতে বলেছি।

তিনি আরও জানান, নভেম্বর পর্যন্ত স্কুল খোলা সম্ভব না হলে ডিসেম্বরে বৃত্তির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। প্রত্যেক স্কুল থেকে পাঁচ বা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসবে। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বৃত্তি পরীক্ষা দেবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে।

আরও পড়ুনঃ  চীনকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিকের ‘রিকভারি প্ল্যান’ বিষয়ে নেপ মহাপরিচালক মো. শাহ আলম জানান, সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর দুই মাসে শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা সামনে রেখে কাজ চলছে। বয়স অনুযায়ী শিশুদের শিখনফল সামনে রেখে তৈরি করা এই পরিকল্পনায় অবশ্যই সিলেবাস সংক্ষিপ্ত হবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী শ্রেণির জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ থাকবে আর কম গুরুত্বপূর্ণ পাঠ বাদ যাবে।

উল্লেখ্য, গেল সপ্তাহে দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে শিক্ষার ‘রিকভারি প্ল্যান’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখান থেকে ডিসেম্বরেই চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ করার কথা বলা হয়। প্রয়োজনে পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের ব্যাপারে বলা হয়। দুই মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর খুব শিগগির আবারও বৈঠক করা হবে বলে জানা যায়।

আনন্দবাজার/এইচ এস কে

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন