শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আখাউড়ায় অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষককে মারধর

আখাউড়ায় অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষককে মারধর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার অভিভাবক সমাবেশ শেষে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার তানভীর আহমেদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ফারুক আহমেদ ও গনেস চন্দ্র দাস নামে আরও দুজন শিক্ষক হামলার শিকার হয়েছেন।এ ঘটনায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবছর এসএসসি পরীক্ষায় আখাউড়া উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল খারাপ হয়। দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭২ জন পাস করেছে। পাসের হার ছিল ৫৪.৫৫। এদিকে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবক সমাবেশ করছেন শিক্ষা অফিস। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার দুপুরে এই বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগ্যজাই মারমা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন। তাছাড়া অভিভাবকরা স্বত:স্ফুর্ত ভাবে অংশ নেন।

মারধরের শিকার ইংরেজি শিক্ষক তানভীর আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ জন্য শিক্ষকদেরকে দোষারোপ করে কয়েকজন অভিভাবক বক্তব্য দেন । এসময় প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদেরকে সমাবেশে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন সমাবেশ শেষে বিদ্যালয়ের দু’তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীর সাথে কথা বলছিলাম। এসময় শেখ সোহেল, জসিম উদ্দিন দেওয়ানসহ আরও একজন অভিভাবক এসে কোন কিছু বুঝার আগেই তারা আমাকে মারধর করতে থাকে। এসয়ম শিক্ষক ফারুক আহমেদ ও গনেস চন্দ্র দাস আমাকে রক্ষা করতে আসলে তারাও হামলার শিকার হয়।

আরও পড়ুনঃ  ৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ পেলেন ২২০৪ জন

শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষকদেরকে অপমান করার জন্য কিছু লোককে সাজিয়ে সমাবেশে আনা হয়। তানভীর এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলছিল। এসময় তারা তার উপর চড়াও হয়। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক কোন ক্লাস নেয় না। প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া অনেক ছাত্রছাত্রীকে চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্যই ফলাফল খারাপ হয়েছে। সমাবেশে বিষয়গুলো আমাদেরকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ সোহেল বলেন, আমি ওই শিক্ষককে মারধর করিনি। উল্টো তিনি আমার সাথে বিদ্যালয়ে খারাপ আচরণ করেছেন। তিনি নিজেকে বাঁচাতে আমার বিরুদ্ধে এখন নানা জাতের মিথ্যা কথা বলছে। হুমকি দেওয়ার কথা সত্য নয়।

দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। পরে বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ খবর নিয়ে বিস্তারিত জানাবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন বলেন এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। শিক্ষকের উপর হামলা হয়ে থাকলে ঘটনাটি দু:খজনক। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন