রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত করে সিগারেট বিক্রি বাড়বে

বাজেটে সিগারেটের ওপর যে কর ধার্য করা হয়েছে তাতে সিগারেটের বিক্রি না কমে উল্টো ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট ইতোমধ্যেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কর প্রস্তাব অপরিবর্তিত থাকলে সিগারেট কোম্পানির বিক্রি বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগও বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

এদিকে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেট, বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে করের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা হতাশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংসদ সদস্যরা। বিভিন্ন তামাক-বিরোধী সংগঠন, গবেষক এবং অ্যাক্টিভিস্টরা সম্মিলিতভাবে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের যে প্রস্তাবনা এনেছিলেন তা এই বাজেটে একেবারেই প্রতিফলিত হয়নি।

মঙ্গলবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে রাজধানী ঢাকায় বিশ^সাহিত্য কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে এক বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় সংসদ সদস্যরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা হলেন- উম্মে ফাতেমা নাজমা, এমপি (মহিলা আসন-১২); উম্মে কুলসুম স্মৃতি, এমপি (গাইবান্ধা-৩); ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, এমপি (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১); মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, এমপি (নীলফামারী-১); মো. হারুনুর রশীদ, এমপি (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩); মো সাইফুজ্জামান, এমপি (মাগুরা-২); শিরীন আখতার, এমপি (ফেনী-১); এবং ফজলে হোসেন বাদশা, এমপি (রাজশাহী-২)।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্বাগত বক্তব্য পাঠ করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

তিনি বলেন, তামাক-বিরোধী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে প্রস্তাব করেছিলো যেন তামাকপণ্যের দাম একটু একটু করে না বাড়িয়ে আসন্ন অর্থবছরে এক ধাক্কায় অনেকখানি বাড়ানো হয়। যাতে জনগণের মধ্যে বিশেষত নিম্নআয়-শ্রেণীর পরিবারগুলোর মধ্যে তামাক ব্যবহারের মাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা যায়। পাশাপাশি কর আহরণের সুবিধার জন্য বিদ্যমান শতাংশ-ভিত্তিক সম্পূরক শুল্কের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাবনাও ছিলো। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্কহার আগের মতোই রেখে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম অতি-সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং সুনর্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়নি। এতে করে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের সম্ভাব্য সুফল থেকে দেশ বঞ্চিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  জাল নথিতে প্লট: রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও নেই মূর্শেদী

শিরীন আখতার, এমপি উল্লেখ করেন যে, অন্তত ১০০ জন সংসদ সদস্য বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই অর্থমন্ত্রীর কাছে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এরপরও এই প্রস্তাবনাগুলো বাজেটে প্রতিফলিত না হওয়া “লজ্জাজনক”। ফজলে হোসেন বাদশা, এমপি তাঁর বক্তব্যে তামাক-বিরোধী সংসদ সদস্যসহ অন্য সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অচিরেই বাংলাদেশে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন।

আনন্দবাজার/টি এস পি

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন