সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চিনির বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি প্রকট হওয়ার আশঙ্কা

চিনির বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি প্রকট হওয়ার আশঙ্কা

চলতি মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক সরবরাহে অনেক বেশি মন্দা ভাব তৈরি হতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ চিনি আমদানিকারক চীনে নিম্নমুখী উৎপাদনের কারণে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে আন্তর্জাতিক বাজার। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে পণ্যটির সরবরাহ ঘাটতি প্রকট হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান স্টোনেক্স।

গত বছরের অক্টোবরে চিনির বৈশ্বিক বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমেও ভোগ্যপণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা-উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন বছরের মতো চাহিদা উৎপাদন ভারসাম্যহীনতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। স্টোনেক্স বলছে, চলতি মৌসুমে পণ্যটির সরবরাহ ঘাটতি ১৯ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ১৮ লাখ টন ঘাটতির প্রক্ষেপণ করেছিল।

প্রতিবেদনে স্টোনেক্স জানায়, চিনি উৎপাদনে বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ দেশ চীন। কিন্তু চলতি মৌসুমে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ চিনি উৎপাদন অঞ্চল গুয়াংসিতে পণ্যটির উৎপাদন পড়তির দিকে। কারণ স্থানীয় কৃষকরা আখের চেয়ে বেশি লাভজনক পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছেন। বিষয়টি দেশীয় উৎপাদনকেও নিম্নমুখী করে তুলছে।

প্রতিষ্ঠানটি ২০২১-২২ মৌসুমে চীনের চিনি উৎপাদন প্রাক্কলন কমিয়েছে। মৌসুম শেষে উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় তিন লাখ টন কমে ১০ লাখ টনে নামতে পারে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, উৎপাদনে নিম্নমুখিতা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে দেশটি ব্যাপক পরিমাণ চিনি আমদানি করবে। প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, ৪৫-৫৫ লাখ টন চিনি আমদানি করা হতে পারে।

এদিকে আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠানটি ভারত ও থাইল্যান্ডের চিনি উৎপাদন প্রাক্কলন আগের নভেম্বরের মতোই অপরিবর্তিত রেখেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ ভারত। প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দেশটি ৩ কোটি ১৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন করবে। থাইল্যান্ডে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৭ লাখ টনে। অন্যদিকে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রে আখ উৎপাদন পূর্বাভাসও অপরিবর্তিত রেখেছে স্টোনেক্স। আখ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টনে। বৈশ্বিক চিনি উৎপাদনে প্রথম লাতিন আমেরিকার এ দেশ। চলতি মৌসুমে দেশটিতে ৩ কোটি ৪৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মুলার কেজি ১ টাকা

বিশ্লেষকরা জানান, গত বছরজুড়ে আন্তর্জাতিক চিনির বাজার ছিল অস্থিতিশীল। এর পেছনে দায়ী করা হয়েছে ব্রাজিলের উৎপাদন পরিস্থিতিকে। গত বছর দেশটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়ে। খরার কারণে সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়। বাদ পড়েনি আখও। এর মধ্যেই দেখা দেয় তীব্র তুষারপাত। ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে থাকে। এসব কারণে দেশটিতে চিনি উৎপাদন কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহে। কিন্তু মহামারীর প্রভাব কমতে থাকায় চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দেয়। বাড়তে শুরু করে দাম। চিনির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলে খাদ্যপণ্যের বাজারেও। ২০২১ সালজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ছিল এক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

প্রান্তিকভিত্তিক বাজার প্রতিবেদনে ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন (আইএসও) জানায়, ২০২১-২২ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ১৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টন চিনি ব্যবহার হবে। এটি আগস্টে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টন কম।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টন কমে ১৭ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টনে নামতে পারে। মৌসুম শেষে ভোগ্যপণ্যটির মজুদ কমে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টনে দাঁড়াবে। গত মৌসুমে মজুদের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টন।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন