রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
নিষেধাজ্ঞার সুফল----

ইলিশে ভরপুর ঘাট

ইলিশে ভরপুর ঘাট

জেলের জালে ধরা পড়ছে দ্বিগুণ

নিষেধাজ্ঞার সুফল পাচ্ছেন কক্সবাজারের জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গেলো বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ ইলিশ অবতরণ হয়েছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে অন্যান্য মাছের সাথে ৩ শত মেট্টিন টনের বেশি ইলিশ এসেছে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে দেখা যায় শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার নোঙ্গর করা। নোঙ্গর করা এসব ট্রলারের পাশে অবস্থান করছে অসংখ্য ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। বড় ট্রলার থেকে ডিঙি নৌকায় নামানো হচ্ছে শত শত ইলিশ। এসব ইলিশ নিয়ে দ্রুত ঘাটে ভিড়ছে ডিঙি নৌকাগুলো। আর একের পর এক ইলিশ ঝুঁড়ি ভর্তি করে নামানো হচ্ছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে।

এফবি রহমান ট্রলারের জেলে শহাজান বলেন, সাগরে গিয়ে গেল ৭ দিন জাল ফেলেছি। জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়েছে ইলিশ। প্রায় ৪ হাজার ইলিশ নিয়ে অবতরণ কেন্দ্রের বিক্রি করার জন্য এসেছি। এখন দ্রুত এসব ইলিশ বিক্রি করে পুনরায় ট্রলারে মালামাল নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছি।

এফবি আল্লাহ দান ট্রলারের জেলে নুরুল আলম বলেন, সাগরে ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা খুশি। আবারও সাগরে যাচ্ছি ৭ দিনের জন্য। আশা করি, আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। কারণ সাগরে ভরপুর ইলিশ রয়েছে।

রমিজ নামে এক জেলে বলেন, সাগরে ১০ দিন জালে ফেলে ৫ হাজার ইলিশ পেয়েছি। এখন এসব ইলিশ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে সাড়ে ৮টা লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা, আর লাভ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। সাগরে ইলিশ ধরা পড়লে খুবই আনন্দ লাগে।

আরও পড়ুনঃ  বন্দরে নিলামপণ্যের জট

ট্রলার মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, সাগরে মাছ শিকার করে যেসব ট্রলার উপকূলে ফিরছে, প্রতিটি ট্রলারে ভরপুর ইলিশ পেয়েছে। আমার ৩টি ট্রলারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেছি। এখন লোকসান অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারব।

মৎস্য ব্যবসায়ী ছৈয়দ হোসেন বলেন, সরকারি বন্ধের কারণে সাগরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যার কারণে অবতরণ কেন্দ্রে বেশি ইলিশ অবতরণ হওয়ায় মাছের দাম কিছুটা কমেছে।

কক্সবাজার অবতরণ কেন্দ্র মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতি লিমিটেড’র সভাপতি ওসমান গণি টুলু বলেন, সাগর মাছ শিকার শেষে প্রতিদিনই ৫০ থেকে ৬০টি ট্রলার অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে আসছে। কিন্তু একটি জেটি হওয়ার কারণে মাছ নামাতে পারছে না।

অনেকেই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বড় ট্রলার থেকে ছোট নৌকায় মাছ নিয়ে ঘাটে ভিড়ছে। আর অবতরণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পল্টুন নেই। যার কারণে মাছ রাখার স্থান পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বদরুদ্দৌজা বলেন, সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষের পর এক সপ্তাহে সাড়ে ৩’শ মেট্রিক টনের অধিক সামুদ্রিক মাছ অবতরণ কেন্দ্রে অবতরণ হয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র ইলিশ রয়েছে ৩ শত মেট্রিক টনের বেশি।

তিনি আরও বলেন, গতবছর এসময়ে যে পরিমাণ মাছ অবতরণ হয়েছিল, তার চেয়ে দ্বিগুণ মাছ এবার অবতরণ কেন্দ্রে অবতরণ হয়েছে। এতে বুঝা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। যার সুফল এখন জেলে থেকে শুরু করে সবাই পাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন