শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চালে ডলারের চাপ

চালে ডলারের চাপ
  • ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিতে অনীহা
  • ঘাটতি পূরণে ১০ লাখ টন আনার লক্ষ্য

চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলার সংকট দেখা দেয়। এরপর জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যর দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ডলারের রেট ঊর্ধ্বগতিতে ছোটে। এই দৌড় অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে কমে আসে প্রবাসী আয়। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের আমদানিতে। লোকসানের ঝুঁকিতে বেশি দামে পণ্য আমদানিতে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ীদের মাঝে।

সরকার দেশের মোট চাহিদার ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে। বেসরকারি পর্যায়ে এই চাল আমদানি হয়। চলতি বছরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। চাহিদা পূরণে প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির কথা রয়েছে। তবে সে পদক্ষেপে বাধা পড়ে ডলার সংকটে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী।

চালের দামে লাগাম টানতে এরই মধ্যে চাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। নতুন আরোপিত শুল্ক অনুযায়ী, চাল আমদানিতে এখন নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ, আগাম কর ৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশসহ মোট ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ শুল্ক কর দিতে হবে। এ নির্দেশনা আটোমেটেড ছাড়া সব ধরনের চাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার অনুমোদন নিতে হবে। তবে সুগন্ধি চাল আমদানিতে পূর্ণ শুল্ক (৬২ শতাংশ) দিতে হবে। তবে শুল্ক কমালেও গত চার মাসে দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ চাল আমদানি হয়নি।

কাঙ্ক্ষিত চাল আমদানি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে যারা চাল আমদানি করেছেন তারা বড় অঙ্কের লোকসানে আছেন। এছাড়া বড় আমদানিকারকরা এলসি খুলতে পারলেও ছোট বা মাঝারিরা ডলার সংকটে তা পারছেন না। ডলারের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না পর্যন্ত আমদানিতে লোকসানের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান তারা।

আরও পড়ুনঃ  ৪৯ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ৭২৩ গুণ

আরও বলছেন, গত চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) ব্যবসায়ীদের ১০ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার ৪১৭ টন চাল আমদানির কথা ছিল। সে হিসাবে ৪২ দিনে বিদেশ থেকে আসার কথা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টন চাল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা গত ১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজার টন চাল আমদানি করেছেন।

চাল আমদানির প্রসঙ্গে কথা হয় নীলফামারী রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও অটো রাইস মিল প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী এবং চাল আমদানিকারক শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকার চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এখন কিছু কিছু আমদানি হচ্ছে। তবে সেটা সামান্য। আমদানি লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ। আমরা চাই আমদানি আরো বাড়ুক।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০২১-২২ বিপণনবর্ষে (মে-এপ্রিল) এক কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে ১ কোটি ১৫ লাখ হেক্টর জমিতে এ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টন। যা আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দুই লাখ টন কম।

তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ৪৭ লাখ হেক্টর জমিতে চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টন। আউশ মৌসুমে ১১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ২৭ লাখ টন আর আমন মৌসুমে ৫৮ লাখ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৩৮ লাখ টন চাল। চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে চাল উৎপাদন হয় ১ কোটি ৯৭ লাখ টন।

আরও পড়ুনঃ  করোনা শনাক্তের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই হাসপাতালে ট্রাম্প

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন