রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অবৈধ পশুরহাটে রাজস্ব ফাঁকি

অবৈধ পশুরহাটে রাজস্ব ফাঁকি
  • শাহজাদপুরে প্রতিহাটে অর্ধলক্ষাধিক টাকার হাসিল বাণিজ্য
  • পশুরহাটের নামে চাঁদাবাজি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরশী-ধীতপুর চরে অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়ে প্রতি হাটে অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক টাকার হাসিল বাণিজ্য করে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আয়েজ উদ্দিন ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে টাকা তুলে তা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে আয়েজ উদ্দিন ও দলবল। হাসিল বাণিজ্যর এক অংশ যায় সোনাতনি ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের পকেটে। তবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি পশু কেনাবেচায় বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতার। তবে অভিযুক্তরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা হাট ইজারা নিয়েছেন। তবে হাটের কাগজ দেখতে চাইলে তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারে নাই। এদিকে অবৈধ পশুর হাটে ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় সংবাদকর্মীকে হেনেস্তা করে আয়েজ উদ্দিন এর ভাই আবু সাঈদ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই অবৈধ এ হাটটি উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আয়েজ উদ্দিন সোনাতনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে হঠাৎ করেই কুরশী-ধীতপুরে গত প্রায় ২ বছর ধরে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ইউনিয়নের কুরশী-ধীতপুর চরে তার নেতৃত্বে সরকারি অনুমোদ ছাড়াই অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো হয়। অনুমোদনহীন হাটটি বসে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার। সেখানে অন্তত ৩ শতাধিক গরু-ছাগল বিক্রির জন্য নিয়ে আসে বেপারি ও খামারিরা। এজন্য গরু প্রতি ক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিল টোকেন বাবদ ৫শ ও প্রতি ছাগল-ভেড়া ক্রেতাদের কাছ থেকে ১শ করে টাকা নেয়া হয়ে থাকে। এভাবে প্রতি হাট বারে অন্তত অর্ধলক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আয়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি মহল।

আরও পড়ুনঃ  এখনও আয়কর রিটার্ন জমা দেননি অর্ধেক টিআইএনধারী

এ ব্যাপারে সোনাতনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়েজ উদ্দিন সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হাটে যাওয়ার আগে আমার কাছে শুনবেন না। কুরশী-ধীতপুর গরুর হাট আমি টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়েছি। কত টাকায় নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের উপর রাগানিত্ব হয়ে ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ পশুর হাটে হাসিল বাণিজ্যের বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন