রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আখচাষিদের টিকে থাকার লড়াই, প্রয়োজন আধুনিক যন্ত্রপাতি

আখচাষিদের টিকে থাকার লড়াই

মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদী পাড়ের গ্রাম মিটিপুর। আগে সেখানকার গ্রামবাসীরা দিনের শুরু করতেন আখের রস পান করে। এক সময় শীতের সকালে ওই গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে ফুটে উঠতো ভিন্ন চিত্র। আর ভোর থেকেই চাষিদের থাকত আখ মাড়াই, রস বিক্রি ও গুড় তৈরির ব্যস্ততা। সঙ্গে প্রতিটা বাড়িতে থাকত শীতের সকালের রসের পিঠা, মিষ্টিগুড়ের পিঠা ও মিষ্টি খিচুড়ি ( গ্রামীণ এক প্রকার পায়েশ) সহ নানা ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার। গ্রামের অন্তত দুইশ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আখচাষের সঙ্গে জড়িত ছিল।

তবে দিন বদলের হাওয়া কেড়ে নিয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্য। গ্রামজুড়ে সেই ঐতিহ্য নেই আগের মত। তবুও অল্প সংখ্যক আখচাষি তাদের পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখছেন, রাখবার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আখ চাষিদের ভাষ্য- আখচাষ লাভজনক। তবে চাষের খরচ বৃদ্ধি আর মাড়াই দেওয়ার আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় তারা এ পেশায় কোনো রকম টিকে আছেন।

কথা হয় আখ চাষি রহিম মিয়া, জামাল মিয়াসহ বেশ ক’জন চাষির সঙ্গে। তারা একসময় মিটিপুর গ্রামের দুইশ পরিবার আখচাষের (স্থানীয়রা একে কুশিয়ার নামে চেনেন) সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন হাতেগোনা ৫ থেকে ৬টি পরিবার পূর্ব-পুরুষদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আখচাষ করছে।

সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে এ প্রতিবেদককে চাষি এলাইচ মিয়া জানান, আখচাষ করতে খরচ অনেক বেশি লাগে। মাড়াই দেওয়ার জন্য আমরা সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছি। আগে মহিষ দিয়ে মাড়াইয়ের কাজ চলতো। এখন এক মহিষের দাম এক লাখ টাকা। এর পরিবর্তে কলের লাঙল ব্যবহার করে মাড়াইয়ের কাজ চালাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  মোল্লাহাটে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

হাবিব মিয়া নামের আরেক চাষি জানান, ১৫ বছর আগেও গ্রামে শতাধিক পরিবার আখচাষের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন আর আগের অবস্থা নেই। সমস্যার কারণে মানুষ দিন দিন আখচাষ ছেড়ে দিচ্ছে। তবে আখচাষ লাভজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, একবিঘা জমিতে আখচাষ করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। লাভ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মানুষ আবার আখচাষে ফিরে আসবে বলে আশাবাদ তার।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল জানান, মৌলভীবাজারের মনু ধলাই নদীর তীর ও অন্যান্য জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আখচাষ হয়। শীতের পিঠাপুলি তৈরির জন্য আখের রস বড় এক উপকরণ।

তবে চাষিরা কোন রকম সাহায্য সহযোগীতা না পাওয়ার অভিযোগে আছে এমন প্রশ্নের জাবাবে কাজী লুৎফুল জানান, এরকম কোনো অভিযোগ নিয়ে আসলে আমাদের কাছে কেউ আসেনি। যেহেতু এখন আপনার মাধ্যমে তাদের অভিযোগটা জানলাম। চাষিরা উদ্যোগী হয়ে আমাদের কাছে আসলে অবশ্যই আমরা পূর্ণ সহযোগীতা অব্যহত রাখব।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন