রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদেশি ২০ জাতের আলুর পরীক্ষামূলক চাষ

বিদেশি ২০ জাতের আলুর পরীক্ষামূলক চাষ
  • নতুন জাতের আলু শিল্পে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশে রফতানিযোগ্য

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বীজ আলু উৎপাদন জোনের আওতায় শেরপুরের নকলা উপজেলায় মাল্টিলোকেশন ট্রায়াল প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ জাতের বীজআলুর চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বানেশ্বর্দী গ্রামের চাষি শামসুজ্জামান জুয়েল জানান, তিনি দুই একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ আলুর জাতগুলো চাষ করেন। জাতগুলো হল টুইনার, বারি ৩৭, এলুইটি, সানসাইন, ফন্টেইন, বারি ৩৫, বারি ৪১, মিউজিকা, আডাটো, বারি ৭৯, শান্তানা, এডিসন, এস্টারিক্স, ডোনাটা, এভারেস্ট, ক্যারোলাস,  গ্র্যানোলা, প্রিমাভেড়া, অ্যালকেন্ডার, ডায়মন্ড। মানসম্মত বীজ আলু উৎপাদন সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোড়দারকরণ প্রকল্পের  আওতায় দেশের ৩০ জোনের প্রদশর্নীর মধ্যে নকলা জোনে একটি আবাদ করা হয়েছে। এ বীজআলু ১ ডিসেম্বর মাঠে রোপন করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে প্রচুর আলু ধরেছে। এসব আলু ৭৫ থেকে ৮০ দিন বয়সে উত্তোলন করা হবে বলে জানান স্থানীয় চাষীরা।

আলু চাষি শামসুজ্জামান জুয়েল বলেন, বিএডিসি হিমাগার পাঠাকাটা নকলার কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে আমি দুই একর জমিতে পরীক্ষামূলক ২০ জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজাআলু চাষ করেছি। উৎপাদনও ভালো হবে আশা করছি। বিএডিসি হিমাগারের কর্মকর্তাগনও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে চাষিদের সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করি ভালো ফলন পাবো। পাশাপাশি চাষি পর্যায়ে উচ্চ ফলনশীল আলুচাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

বিএডিসি হিমাগার নকলা জোনের উপ সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, এ জাতগুলো সবই উচ্চ ফলনশীল। আমরা নিয়মিত আলু চাষিদেরকে পরামর্শ দিয়ে মাঠ পরিদর্শন করছি। আশা করছি ফলন খুবই ভালো হবে। চাষি পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এ জাতগুলোর মধ্যে যেগুলো উৎপাদনে ভালো হবে সেগুলো বিএডিসি’র আলু বীজ হিমাগারের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে। বিদেশে রফতানিযোগ্য আলুচাষ করে চাষি অধিকহারে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে দ্রুত সেবা দিতে কল সেন্টার চালু

তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আলুচাষের জন্য খুবই উপযোগি। বিএডিসি হিমাগার নকলার বাস্তবায়নে ২০২১-২০২২ উৎপাদন মৌসুমে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও মাল্টি লোকেশন পারফরমেন্স যাচাইয়ের জন্য ২০ জাতের উচ্চ ফলনশীল শিল্পে ব্যবহার ও বিদেশে রফতানি যোগ্য আলু চাষ করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং চাষিদের নিয়মিত পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছি। এসব উৎপাদিত আলুর কোয়ালিটি যাচাই করে চাষিদের মাঝে আরো আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে চাষি আলু চাষে লাভবান হন।

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন